
মনোহরপুর (মণিরামপুর) প্রতিনিধি
গ্রামের উঠানে বসে সাদা কালো ও রঙ্গিন কাপড়ের ওপর নিঃশব্দে চলছে একের পর এক ফোঁড়।আরও সেই ফোঁড়ের সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে জীবনের হিসাব। ভবদহের জলাবদ্ধতা থাকে প্রতি বছরের প্রায় চার থেকে পাচ মাস।এ এলাকার নারীরা তারা নকঁশিকাথায় স্বপ্ন বুনছে। যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে নারীদের হাতে তৈরী নকশা নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রাঙ্গিয়ে তুলছে।অনেক নারীর স্বাবলম্বী হয়েছে এবং অভাবের দেওয়াল ভেঙ্গেছে।মনোহরপুর ইউনিয়নের অনেক স্হানে এই সব চিত্র একটায় উঠানে বা ঘরের ভিতরে কিংবা কেউ ঘরের বারান্দায় বসে নারীরা ব্যস্ত সূচ আর সুতার কাজে।নকশিকাঁথার নকশা তুলে নিয়মিত আয় করছেন।বাড়ীর গৃহস্হালির কাজ শেষ করে এক সময় অলসতায় কেটেছে।কিন্তু ঠিক সে সময় এইচএমবিডি ফাউন্ডেশন ঢাকা ও যশোরের প্রাইড নামক একটি সেচ্ছাসেবী এনজিও র যৌথ উদ্যাগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে। এসে তাদের অলস তার সময় তাদের আয়ের সময় করে দিল।কেউ বা একা বসে,কেউ বা দুজন বসে আবার কেউ বা দলবেঁধে সুচের সুতা পরিয়ে আপন মনে নাকশঁ তুলছে।রঙ্গিন সুতা,সাদা সুতা,কালো সুতা,হলুদ সুতার মেলবন্ধনে সাধারণ কাপড় হয়ে ওঠে দৃষ্টি নন্দন শিল্পকর্ম। দেখা মেলে দল বেধে বসে গল্পের ফাঁকে চলছে নকশা তোলার কাজ।সে সব কাঁথা গুলো নকশি কাঁথা গুলো হয়ে ওঠে দৃষ্টি নন্দন,সৌন্দর্য। নকশি কাঁথার কাজের সাথে জড়িত গ্রামের নারীরা জানান,কয়েকমাস যাবত আমরা এই কাজ শুরু করেছি।আরো আগে আসলে আরো ভালো হতো।
প্রতিটা পরিবার তার স্বামীর আঢের উপর নির্ভরশীল থাকতো। কিন্তু এখন সেই কথাটা একটু কমেছে।পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও কাজ করছে।অনেক পরিবার আছে স্বামী, স্্রী মিলে দু জনে কাজ,কাম করছে।তাদের সংসারের চাকা সচল রেখেছেন।মনোহরপুর সহ প্রায় অর্ধশতাধিক অধিকাংশ পরিবারে সেলাই মেশিন দিয়ে দর্জি কাজ করে সংসারের খরচের চাহিদা মেটাচ্ছে নারীরা।তারা কৃষি কাজও করছে পুরুষের পাশাপাশি। আগে আমার স্বামীর কাছে কিছু টাকা চাইলে বলতো এখন টাকা নেই।কত কষ্ট হয়েছে তার হিসাব নাই।স্যসারে টানাটানি নিত্য দরকারি জিনিসের অনেক দাম।এখন নকশিকাঁথার সেলাই কাজ করে যে টাকা পাই তাতে করে কিছু চাল,ডাল,নুনের চিন্তা তো করতে হবে না।সংসার ভালো চলছে।
মরিয়ম খাতুন,রুবিন বেগম,লাইজু বেগম,সোনিয়া খাতুন,মিনতি রায়,প্রিয়ংকা রায়,রাবেয়া বেগম ,আকলিমা বেগম,মিম বেগম,মনিরা খাতুন,আসমা বেগম,নুর জাহান ও লিপি খাতুন রা বলেন,আগে অলস বসে থাকতাম বসে বসে দিন পার হতো।সংসারে অভাব লেগেই থাকতো কিন্তু এখন সুই সুতা দিয়ে নকশিঁকাথার কাজ করি তাতে কিছুটা হলেও সংসার চলছে ভালো।
মনোহরপুর গ্রামের অনেক নারীরা এ নকশিঁ কাথা সেলাই কাজে মনোনিবেশ করেছে।হচ্ছে বাড়তি ইনকাম।অনেক পরিবার আছে তার স্বামীই শুধু কৃষি কাজ করে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। সে পরিবারে তার স্রী যদি এ সেলাই কাজ করে একটু কিছু টাকা উপার্জন করে তাহলে বেশ ভালো ভাবে চলবে।এই নারীদের নীরব সুচের ফোঁড়ে বদলে যেতে পারে মনোহরপুর এর গ্রামের নারীরা।তবে তাদের মন দিয়ে কাজ করতে হবে। প্রাইড যশোরএর নির্বাহী পরিচালক উজ্জ্বল কুমার বালা বলেন,গ্রামের অনেক নারী অবহেলিত, অসহায় তাদের কে নকশিঁ কাঁথা সেলাই করার আহবান জানিয়েছি। তারা সাড়াও দিয়েছে কাজও করছে।আমরা তাদের কাছ থেকে ঐ নকশিঁ কাঁথা টা কিনছি।তাদের আয়ের একটা পথ হলো।অর্থনৈতিক ভাবে তারা স্বাবলম্বী হবে।নারীরা তাদের ঘরে বসে বাড়তি আয়ের সুযোগ।সেই কাঁথা গুলো আমরা তাদের কাছ থেকে পাই কেরি ক্রয় করি।তাদের নরম হাতের নিখুঁত সুচের ফোঁড়ে নকশিকাঁথার ফুটে ওঠেছে মন প্রাণ।তাদের নকশিকাঁথার নকশায় আত্মবিশ্বাস আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাড়ছে সমাজে অবহেলিত নারীর নতুন নতুন ভবিষ্যতের কর্ম।সংসারের সকল কাজ শেরে কাজ করছে নকশিকাঁথা র দিকে।তাদের যদি সরকারি ভাবে কোন সহায়তা দেওয়া হয় তাহলে নকশিঁকাথার বাজার আবারও ক্রয় বাড়বে।মনোহরপুরে অনেক নারীই নকশিঁকাথায় ভাঙছে অভাব।তাদের সূচকের নীরব ফোঁড়েই পাল্টে গেছে জীবনের হিসাব। সমাজ থেকে কমে যাবে অসহায় ও অবহেলিত নারীদের গল্প উন্নত হবে সমাজ।