1. live@dailysatkhirdiganta.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.dailysatkhirdiganta.com : দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত :
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৫:১২ অপরাহ্ন

জনস্বার্থে অবসর নয়, এটি বিবেকের শাস্তি”  ক্ষোভ, আত্মসমালোচনা ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি সাবেক ডিআইজি রউফের

ডেক্স নিউজ
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

ডেক্স নিউজ

“রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?”- এমন আবেগঘন প্রশ্ন তুলে দীর্ঘ এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিজের চাকরি জীবন, বঞ্চনা, বদলি, অপমান এবং ‘জনস্বার্থে বাধ্যতামূলক অবসর’ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পুলিশের সদ্য সাবেক ডিআইজি মোহাম্মদ গোলাম রউফ খান। তিনি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, নৈতিক স্খলন কিংবা দায়িত্বে অবহেলার কোনো অভিযোগ নেই; বরং নিরপেক্ষতা ও বিবেকের সঙ্গে আপস না করাই ছিল তার “একমাত্র অপরাধ”।

 

গত ০৩ মে ২০২৬ তারিখে তাকে ‘জনস্বার্থে বাধ্যতামূলক অবসর’ দেওয়া হয়। অথচ তার স্বাভাবিক অবসরের সময় ছিল ০৪ জানুয়ারি ২০৩৪ সালে। এ প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, “আমার জীবন থেকে উড়িয়ে নেয়া হলো ৮টি বছর— ‘কালবৈশাখী’র পাখায় ভর দিয়ে এলো ‘জনস্বার্থের অবসর’।”

 

দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২২ সালে ডিআইজি পদে পদোন্নতি পাওয়াটাই ছিল “অলৌকিক”। তার ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে গিয়ে তিনি বারবার বঞ্চনার শিকার হয়েছেন।

 

বিশেষ করে ২০১৪ সালে খুলনার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ের পর তার ওপর চাপ বাড়তে থাকে। পরে নির্বাচনের মাত্র দুইদিন আগে তাকে বদলি করা হয়।

 

তিনি দাবি করেন, খুলনা ছাড়ার পরদিন অনুষ্ঠিত অবশিষ্ট উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির কোনো প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেননি। একইভাবে ২০১৮ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ছয় দিন আগে “নীতিগত দ্বিমতের” কারণে তাকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, চাকরি জীবনে তিনি বহুবার “নীরব নির্বাসন”, ঘনঘন বদলি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। পুলিশের রমনা কমপ্লেক্সে বাসা বরাদ্দের অপেক্ষমাণ তালিকায় বছরের পর বছর শীর্ষে থেকেও বাসা পাননি বলেও দাবি করেন তিনি।

 

চাকরি জীবনের আর্থিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি জানান, ২৬ বছরের চাকরি শেষে তার হাতে নগদ ছিল মাত্র ৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং ব্যাংক হিসাবে সর্বমোট ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৫৮৪ টাকা ৯৭ পয়সা। তিনি লেখেন, “না কোনো অবৈধ সম্পদ, না কোনো বিত্তের পাহাড়; কেবল একটি বিবেক, কিছু অভিজ্ঞতা এবং অসংখ্য অপ্রকাশিত কষ্টের স্মৃতি।”

 

নিজের পেশাগত অর্জনের কথাও স্ট্যাটাসে তুলে ধরেন তিনি। সন্ত্রাস দমন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন, শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের নতুন ইউনিট গঠনে ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তদন্ত পদ্ধতি নিয়ে তার লেখা ৬৫২ পৃষ্ঠার বই ‘তদন্তের ময়নাতদন্ত’-এর কথাও জানান, যার তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশের কাজ চলমান রয়েছে।

 

স্ট্যাটাসের এক পর্যায়ে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তার পুরো কর্মজীবন, অভিযোগ এবং আকস্মিক অবসরের প্রেক্ষাপট নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা হোক। তিনি দাবি করেন, তার কাছে “সকল তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষী” রয়েছে।

 

তিনি আরও লেখেন, “আমি কোনো প্রতিশোধ চাই না, কোনো অনুগ্রহও নয়-আমি চাই শুধু একটি ন্যায়সঙ্গত মূল্যায়ন, যাতে আমার পরিচয়ের ইতিহাসে বিকৃতি না থাকে।”

 

শেষাংশে দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করে তিনি বলেন, “কোনো অশুভ শক্তি যেন আমার স্বাভাবিক জীবন প্রবাহকে কেড়ে নিতে না পারে, আমার চারটি মাসুম বাচ্চা ও পরিবারের নিরন্তর অশ্রুজলের কারণ না হয়ে ওঠে।”

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই আবেগঘন স্ট্যাটাস ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার বক্তব্যের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ কেউ বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত