
মোঃ মেহেদী হাসান, সম্পাদক ও প্রকাশক।
আজ ৩ মে, বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য ও সময়ের দাবি— ‘মুক্ত গণমাধ্যম: গণতন্ত্রের প্রাণস্পন্দন রক্ষার অঙ্গীকার’। দিবসটি কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায় কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সত্যের দীপশিখা জ্বালিয়ে অবিচল থাকার এক নৈতিক শপথ এবং মানুষের অবাধ মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষার এক সুদৃঢ় প্রত্যয়।
ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায় সাক্ষ্য দেয়, যেখানে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে, সেখানেই গণতন্ত্রের শিরায় শিরায় নেমে এসেছে নীরব অন্ধকার। গণমাধ্যম সমাজের স্বচ্ছ দর্পণ, যেখানে প্রতিফলিত হয় রাষ্ট্র, সরকার ও জনজীবনের বহুমাত্রিক রূপ। এটি একদিকে যেমন জনগণের তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করে, অন্যদিকে জবাবদিহিতার এক অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করে। প্রান্তিক মানুষের নিঃশব্দ আর্তনাদ, বঞ্চনার দীর্ঘশ্বাস কিংবা ন্যায়বিচারের দাবিতে উচ্চারিত প্রতিবাদের ভাষা— সবই গণমাধ্যমের পাতায় ও পর্দায় জীবন্ত হয়ে ওঠে।
বর্তমান বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, এই সত্যের পথ সব সময় মসৃণ নয়। বিশ্বের নানা প্রান্তে গণমাধ্যম আজও বহুমুখী প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি। কখনো আইনের কঠোর বেড়াজাল, কখনো রাজনৈতিক প্রভাবের অদৃশ্য শৃঙ্খল, আবার কখনো সরাসরি ভীতি ও হুমকির ছায়া সংবাদকর্মীদের পথচলাকে কণ্টকাকীর্ণ করে তোলে। বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক বাস্তবতার বাইরে নয়। অগ্রগতির দীপ্ত রেখা যেমন দৃশ্যমান, তেমনি কিছু উদ্বেগের মেঘও আকাশে ভেসে বেড়ায় যা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রবাহের বিস্তার অভাবনীয়। মুহূর্তেই সংবাদ গড়িয়ে পড়ে বিশ্বময়। কিন্তু এই দ্রুততার ভেতরেই লুকিয়ে আছে এক গভীর সংকট— ভুয়া সংবাদ এবং গুজব। আজকের সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সত্যকে যাচাই করে উপস্থাপন করা এবং তথ্যকে বস্তুনিষ্ঠতার শুভ্রতায় পরিশীলিত করা। স্বাধীনতার সাথে যুক্ত হতে হবে দায়িত্ববোধের কঠোর অনুশাসন; কারণ দায়িত্বহীন স্বাধীনতা অনেক সময় বিভ্রান্তির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
রাষ্ট্রের ওপর একটি মৌলিক দায়িত্ব হলো গণমাধ্যমের জন্য এমন একটি নিরাপদ ও স্বাধীন পরিসর নিশ্চিত করা, যেখানে সাংবাদিকরা নির্ভয়ে সত্য উচ্চারণ করতে পারেন। অন্যদিকে গণমাধ্যমকেও স্মরণ রাখতে হবে— স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়; এটি এক গভীর নৈতিক দায়বদ্ধতা।
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, স্বাধীন গণমাধ্যম কোনো বিলাসিতা নয়, এটি সুস্থ সমাজের অপরিহার্য ভিত্তি। গণতন্ত্রের প্রাণস্পন্দন সচল রাখতে, সুশাসনের ভিত মজবুত করতে এবং মানুষের অধিকার সমুন্নত রাখতে মুক্ত গণমাধ্যমের পথ সুদৃঢ় করাই হোক আজ আমাদের অটল অঙ্গীকার।
“সত্যের সন্ধানে, জনগণের সাথে”
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে ‘দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত’ এবং ‘ডিএসডি টিভি’ (DSD TV) পরিবারের পক্ষ থেকে সকল সাংবাদিক, সংবাদকর্মী এবং অগণিত পাঠক ও দর্শকদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে প্রতিকূলতাকে জয় করে যারা প্রতিনিয়ত সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করছেন, তাদের জানাই গভীর শ্রদ্ধা। একটি মুক্ত, স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম গড়ে তোলার লড়াইয়ে আমরা আপনাদের পাশেই আছি।