1. live@dailysatkhirdiganta.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.dailysatkhirdiganta.com : দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত :
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

কয়রায় জমি দখল ও মরণব্যাধি আক্রান্ত শিশুসহ গৃহবধূর ওপর বর্বরোচিত হামলা, বিচারের আশায় হাসপাতালে সোনিয়া

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক,

খুলনার কয়রা উপজেলায় ত্রিপল মার্ডার পরবর্তী আতঙ্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বানিয়া গ্রামে এক অসহায় পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। জমি দখলের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ব্লাড ক্যান্সার ও থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত এক শিশু এবং তার মা-বাবাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। বর্তমানে গুরুতর আহত গৃহবধূ সোনিয়া খাতুন কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বানিয়া মৌজার ০.৬৭ একর জমি দীর্ঘদিন ধরে সোনিয়া খাতুন ও তার পরিবার ডিসিআর মূলে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু প্রতিবেশী রফিকুল গাজী, বিলাল গাজী ও তাদের সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি দখলের পাঁয়তারা করছিল। গত ৫ মে (মঙ্গলবার) বিকেলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিবাদীরা সোনিয়ার বসতভিটার সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর শুরু করে।
বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা সোনিয়ার স্বামী মফিজুল গাজীকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এ সময় তাদের মরণব্যাধি আক্রান্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে মীম পিতাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও নির্মমভাবে পিটিয়ে শ্লীলতাহানি করা হয়। সোনিয়া খাতুন নিজের সন্তান ও স্বামীকে বাঁচাতে গেলে তাকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেওয়া হয়, যা তার মাথার পেছনে লেগে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে তাৎক্ষণিক কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন, যেখানে তার মাথায় তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে।

ঘটনার পর কয়রা থানার এসআই প্রণয় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করেন। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসআই প্রণয় বিষয়টিকে অত্যন্ত লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করছেন। মাথায় তিনটি সেলাই এবং জখম থাকা সত্ত্বেও তিনি একে ‘সিম্পল ইনজুরি’ বা সাধারণ ঘটনা হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। এমনকি ৩২৩ ধারার মামলা আদালতে টিকবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, বাগালী ইউনিয়ন পরিষদের দফাদারের মাধ্যমে ফোনটি উদ্ধার হলেও তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনার গভীরতা আড়াল করার চেষ্টা করছেন। যেখানে বর্তমান চার্জে থাকা অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) শাহ আলম মামলা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন, সেখানে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তার এমন নেতিবাচক ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী পরিবার।

জানা গেছে, এর আগেও এই পরিবারের ওপর নির্যাতনের খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় বিবাদীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সংবাদ প্রকাশের জেরে তারা একাধিকবার হামলা ও খুনের হুমকি দেয়। সর্বশেষ এই হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সোনিয়া খাতুন।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন সোনিয়া। পাশেই চিকিৎসাধীন তার অসুস্থ মেয়ে। সোনিয়া খাতুন বলেন, “আমরা গরিব বলে কি বিচার পাব না? আমার অসুস্থ বাচ্চাটাকেও ওরা ছাড়ল না। পুলিশ যদি একে সাধারণ ঘটনা বলে এড়িয়ে যায়, তবে আমরা কোথায় দাঁড়াব?”
এ বিষয়ে কয়রা থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) শাহ আলম জানান, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধী যেই হোক, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অসহায় এই পরিবারের নিরাপত্তা এবং দোষীদের গ্রেপ্তারে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

 

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত