সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পুনরায় যোগদান করলেন কর্মদক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইউনুস আলী রাজশাহী তায়কোয়ানডো দোজাং এর আয়োজনে ২৬তম বেল্ট বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হল ৭৫টি সেলাই নিয়েও মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই, ৩০ দিনেও ধরা পড়েনি  আসামি পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আদমদীঘিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সাকিব গ্রেপ্তার! ট্রাস্কফোর্স অভিযানে একাধিক মামলার আসামি নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার; ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজা উদ্ধার মাদকবিরোধী অভিযানে সোচ্চার হয়ে সরকারের সাথে তাল মিলিয়ে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করতে চাই তালার ৪ নং কুমিরা ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারগন। নবাগত পুলিশ সুপার আশিস বিন হাছান: ঝিনাইদহকে  শান্ত ও মাদকমুক্ত জনপদ গড়ার প্রত্যয়  ফকিরহাটে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় পথচারী নিহত কলারোয়ায় টিআর-কাবিখা প্রকল্পে লাখ লাক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তের দাবি জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল নবাবগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

কয়রার ট্রিপল মার্ডার মামলার আসামিদের নিয়ে ‘ব্যানারহীন’ মানববন্ধন নেপথ্যে জমি দখলের চক্রান্ত

  • প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬
  • ১১১ বার পড়া হয়েছে

সাহারা সুলতানা, বিশেষ প্রতিনিধি

খুলনার কয়রা উপজেলায় এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবারের জমি দখল করতে অভিনব ও নাটকীয় কৌশল অবলম্বন করেছে একটি প্রভাবশালী চক্র। ২০২১ সালের আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলার চার্জকয়রারশিটভুক্ত আসামিদের সাথে নিয়ে ‘ব্যানারহীন’ ও ভাড়ায় চালিত মানববন্ধন করে ভুক্তভোগী পরিবারকে উল্টো হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ফারুক হোসেন মোড়ল এবং নৌবাহিনী সদস্য মোস্তফার নেতৃত্বে এই সাজানো মানববন্ধন ও জমি দখলের পাঁয়তারা চলছে বলে জানা গেছে।

 

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি মফিজুল ইসলামের জমি দখল ও নির্যাতনের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর অভিযুক্তরা ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে একটি নাটকীয় মানববন্ধনের আয়োজন করে। স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন মোল্লা, রোকন ও শহিদুলদের দাবি, ৫০০ টাকার বিনিময়ে কিছু ভাড়াটে লোক নিয়ে রাস্তার ওপর এই কর্মসূচি পালন করা হয়, যেখানে কোনো ব্যানার বা সুনির্দিষ্ট দাবি ছিল না।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই মানববন্ধনে সরাসরি অংশ নিয়েছেন ২০২১ সালের সেই ট্রিপল মার্ডার (হাবিবুর রহমান, তার স্ত্রী বিউটি খানম ও কন্যা হাবিবা সুলতানা টুনি হত্যা) মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আল আমিন গাজী, আব্দুল ওহাব, রিজিয়া সুলতানা ও তাসলিমা খানম। খুনের মামলার আসামিরা এভাবে প্রকাশ্যে এসে বাদীর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ তথ্য ছড়িয়ে মানববন্ধন করায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

ভুক্তভোগী মফিজুল ইসলামের অভিযোগ, তার ক্রয়কৃত ও রেকর্ডীয় জমির ওপর নজর পড়েছে ফারুক হোসেন মোড়লের। উল্লেখ্য, এই ফারুক মোড়লের আপন বড় ভাই রজত মোড়ল উক্ত ট্রিপল মার্ডার মামলার অন্যতম প্রধান আসামি। মূলত ভাইকে মামলা থেকে বাঁচাতে এবং মফিজুলের জমি হাতিয়ে নিতেই ফারুক মোড়ল ও নৌবাহিনী সদস্য মোস্তফা হাত মিলিয়েছেন। তারা ইতিমধ্যেই ওই জমির একাংশে পাকা দোকান নির্মাণ শুরু করেছিলেন। থানায় অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মফিজুলের বাড়িতে ঢুকে তার স্ত্রীকে বেধড়ক মারপিট ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে, যা নিয়ে আদালতে বর্তমানে মামলা চলছে।

 

এলাকাবাসীর দাবি, নৌবাহিনীতে চাকরির সুবাদে মোস্তফা নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করেন। তিনি এই ট্রিপল মার্ডার মামলার আসামিদের প্রধান অর্থদাতা ও আশ্রয়দাতা হিসেবে কাজ করছেন। আসামিরা প্রকাশ্যেই দাপট দেখিয়ে বলছে, “১৯ জন আসামি ১৯টা মামলা করব, মার্ডার মামলায় আমাদের কিছুই হবে না।” মোস্তফার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে অন্যের জমি দখল ও একাধিক বিয়ের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগও স্থানীয় পর্যায়ে মুখে মুখে।

 

২০২১ সালের সেই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পর মামলাটি বর্তমানে খুলনা সিআইডিতে তদন্তাধীন। আসামিরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও প্রভাবশালীদের মদদে তারা এখন বাদীর পরিবারকেই এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে। মফিজুল ইসলাম বলেন, “ভাই-ভাবি ও ভাতিজিকে হারিয়েছি, এখন আসামিরা আমাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করতে সাজানো মানববন্ধনের নাটক করছে। আমরা জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

এই সাজানো মানববন্ধন এবং ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।

[অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের আগামী পর্বে থাকছে: ট্রিপল মার্ডার মামলার আসামিদের সাথে নৌবাহিনী সদস্য মোস্তফার গোপন বৈঠকের চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ভিডিও…]

 

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews