
সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কামালনগর এলাকার যুব জামায়াত নেতা আল মামুনের জানাজায় শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাদ আসর কামালনগর ঈদগাহ ময়দানে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক।
জানাজার আগে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, মরহুমের পিতা রবিউল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি ও জেলা যুব বিভাগের সভাপতি ওমর ফারুক, শহর জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান, শহর সেক্রেটারি খোরশেদ আলম, ৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুল গফুর, স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মনিরুল ইসলাম ফারুকী, মাওলানা ইয়াহিয়া প্রমুখ। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে কামালনগর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, “আল মামুন ছিলেন একজন বিনয়ী, পরহেজগার ও সংগঠনের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। দ্বীনের কাজে তিনি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতেন। তার অকাল মৃত্যু শুধু পরিবারের নয়, ইসলামী আন্দোলনের জন্যও এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা মহান আল্লাহর কাছে তার সকল গুনাহ মাফ করে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করার দোয়া করি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক কামনা করি।”
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, “জামায়াতের প্রায় প্রতিটি কর্মসূচিতে মামুনকে সামনের সারিতে দেখা যেত। সংগঠনের প্রতি তার দায়িত্ববোধ, আন্তরিকতা ও কর্মস্পৃহা আমাদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। মহান আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন এবং পরিবারকে এ শোক সহ্য করার শক্তি দান করেন।”
মরহুম আল মামুন সাতক্ষীরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কামালনগর এলাকার জামায়াত কর্মী রবিউল ইসলামের ছেলে।
মরহুমের পিতা রবিউল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার ভোররাতে হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল প্রায় ৮টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন।
জানাজায় অংশ নেওয়া মানুষের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে পুরো ঈদগাহ মাঠে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখতে ও বিদায় জানাতে মানুষের ঢল নামে। দাফনের সময়ও শোকাহত মানুষের চোখে ছিল অশ্রু, আর সবার মুখে ছিল মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া।