
মাদারীপুর হতে নাসির উদ্দিন লিটন,
দেশের মানবপাচারপ্রবণ জেলাগুলোর অন্যতম প্রধান জেলা হলো মাদারীপুর। উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে প্রতিবছর জেলার বহু মানুষ বিদেশে পাচারের শিকার হন। কেউ ফিরে আসেন নিঃস্ব হয়ে, কেউ বছরের পর বছর বিদেশের বন্দিশিবিরে মানবেতর জীবন কাটান। আবার অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়েও বিচার পান না। এমন বাস্তবতায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও ভুক্তভোগীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে মাদারীপুর জেলা পুলিশ। এ লক্ষ্যে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘মানবপাচার প্রতিরোধ ও মনিটরিং সেল’।
মঙ্গলবার (২৮ শে জুলাই) বিকেলে মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের নিচতলার একটি কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে সেলটির উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা, সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মন, সহকারী পুলিশ সুপার সালাহউদ্দিন কাদের এবং জেলার পাঁচ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “মাদারীপুর একটি মানবপাচারপ্রবণ জেলা। উন্নত জীবনের আশায় অনেক মানুষ প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন।জমি জমা বিক্রি করে মানুষের কাছ থেকে ধার দেনা করে পথের ভিখারি হয়ে যায়। উল্টো মানব পাচারকারীগন মামলার ভয় দেখায়।আর সেই কারণেই মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের নিরাপত্তা, আইনি সুরক্ষা এবং বিচার নিশ্চিত করতেই এই মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।”
তিনি জানান, নতুন এই সেল মানবপাচার-সংক্রান্ত প্রতিটি মামলার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত, অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল, সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, বিচারিক কার্যক্রম তদারকি এবং ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা—সব কার্যক্রম একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হবে। ফলে মামলার দীর্ঘসূত্রতার জানজট কমবে এবং ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, অতীতে দেখা গেছে মানবপাচারের শিকার অনেক ব্যক্তি মামলা করতে গিয়ে বা মামলা পরিচালনার সময় নানা ধরনের হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে দালালচক্রের চাপ, ভয়ভীতি কিংবা পাল্টা মামলার আশঙ্কায় ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। নতুন এই মনিটরিং সেল এসব বিষয়ে নজরদারি বাড়িয়ে ভুক্তভোগীদের পাশে থাকবে।
তিনি আরও জানান, মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো, দালালচক্র শনাক্তকরণ এবং আন্তঃজেলা সমন্বয় জোরদারের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাদের আশা, এই উদ্যোগ মানবপাচার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং ভুক্তভোগীদের জন্য বিচারপ্রাপ্তির পথ আরও সহজ করবে।আর সেই কারণেই জেলা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।