
মোঃ মেহেদী হাসান, সম্পাদক ও প্রকাশক
চুয়াডাঙ্গা সদরের কোটপাড়ায় ইন্টারনেটের বকেয়া বিল চাওয়ায় একজন বৈধ ব্যবসায়ীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা এবং উল্টো জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম আব্দুল্লাহ। তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সাদেক আলী মল্লিকপাড়ার অধিবাসী আনিসুর রহমান ও জাকিয়া খাতুনের ছেলে এবং স্থানীয় ‘মাদরাসাতুন নুর’-এর একজন শিক্ষক।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, বিটিআরসি (BTRC) নিবন্ধিত ও অনুমোদিত ‘ট্রায়াঙ্গেল কোম্পানি’র স্থানীয় ব্যবসায়ী এস এম রেদোয়ান আহমেদ রিয়াদ গত ১০ জুলাই গ্রাহক আব্দুল্লাহর অনুরোধে তার ওয়াইফাই লাইন রিচার্জ করে দেন। শিক্ষক আব্দুল্লাহ ১১ জুলাই দুপুর ১২টার মধ্যে বিল পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্ধারিত সময়ে তা পরিশোধ করেননি। পরবর্তীতে ১২ ও ২১ জুলাই পুনরায় নতুন তারিখ দিয়েও তিনি বিল মেটাননি।
দীর্ঘদিন বিল বকেয়া থাকায় গত ২৩ জুলাই ব্যবসায়ী ও গ্রাহকের মধ্যে ফোনে কথা-কাটাকাটি হয়। অবশেষে কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী ২৪ জুলাই ওই সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষক আব্দুল্লাহ গত ২৭ জুলাই ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অনলাইনে রিয়াদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আগামী ২৯ জুলাই চুয়াডাঙ্গা জেলা ভোক্তা-অধিকার কার্যালয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
ব্যবসায়ী এস এম রেদোয়ান আহমেদ রিয়াদ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “গ্রাহক আব্দুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে বিল না দিয়ে উল্টো আমাদের কাছে বিভিন্ন সময়ে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় এবং পাওনা বিল চাইতে গেলে তিনি আমাদের মারধর করতে আসেন ও চরম অসভ্য আচরণ করেন। একজন গ্রাহক এভাবে টাকা না দিয়ে উল্টো আমাদের হয়রানি করলে আমরা ব্যবসা পরিচালনা করব কীভাবে?”
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় এ ধরনের সুবিধাবাদী ও অসদাচরণমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। এলাকাবাসীর মতে, তিনি একজন নিয়মিত বিলখেলাপি ও প্রতারক প্রকৃতির লোক। দুই মাস বিল বাকি রাখার পর লাইন কেটে দেওয়ায় তিনি এই প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন। এর পাশাপাশি, মাদ্রাসা চলাকালীন কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ব্যবসায়ী রিয়াদ শিক্ষক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির পাল্টা অভিযোগ দিতে চুয়াডাঙ্গা ভোক্তা-অধিকার কার্যালয়ে গেলে তারা কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে প্রশ্ন উঠেছে—ভোক্তা-অধিকার কর্তৃপক্ষ কোন তথ্যের ভিত্তিতে প্রমাণের তোয়াক্কা না করে একপক্ষীয়ভাবে একজন অসাধু গ্রাহকের অভিযোগ গ্রহণ করে শুনানির নোটিশ দিল? এ নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা যাচাই ও বক্তব্য নেওয়ার জন্য এই প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে শিক্ষক আব্দুল্লাহর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
একজন শিক্ষকের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড, চাঁদা দাবি, শিক্ষার্থীদের নির্যাতন এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন চুয়াডাঙ্গার সাধারণ জনগণ ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজ।