শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রোগী-স্বজনদের নিরাপত্তায় মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার মোতায়েন রাণীশংকৈলে ‘মেসার্স এম এম ট্রেডার্স’-এর শুভ উদ্বোধন, উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তানোর থানা পুলিশের অভিযানে ০১ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার। এসো আলোর সন্ধানে যুব সংগঠনের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত। কক্সবাজার সদরে পিকআপের বাম্পারে লুকানো ৮ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক ১ সাতক্ষীরায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পানিবন্দি মানুষের পাশে এমপি শাহজাহান চৌধুরী, হ্নীলার দুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ কক্স বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড (সিবিসি)-এর পক্ষ থেকে নতুন শেয়ারহোল্ডারদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ৩৩ বস্তা সার ও ২টি নৌকা জব্দ সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সক্রিয় সদস্য কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ, অস্ত্র গোলাবারুদ জিম্মি উদ্ধার

শ্যামনগর থানার পরিচ্ছন্ন কর্মীর আড়ালে মাদক কারবার ও ক্ষমতার অপব্যবহার ডোপ টেস্টের দাবি এলাকাবাসীর

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক,

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানায় কর্মরত এক পরিচ্ছন্ন কর্মীর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, গ্রেফতারি পরোয়ানা ফাঁস এবং দালালি চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। আব্দুর রহিম নামের ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত গুরুতর সব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং তার মাদকাসক্তি যাচাইয়ে অবিলম্বে ‘ডোপ টেস্ট’ করানোর দাবি তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শ্যামনগর সদর বাদঘাটা গ্রামের মৃত আবেদ আলী তরফদারের ছেলে আব্দুর রহিম ২০১৫ সালে শ্যামনগর থানায় পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৬ সাল থেকে টানা একই থানায় কর্মরত থাকার সুবাদে তিনি গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট। থানার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য, বিশেষ করে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং পুলিশের নিয়মিত অভিযানের খবর তিনি আগাম পাচার করে দেন স্থানীয় মাদক কারবারি ও অপরাধীদের কাছে। বিনিময়ে হাতিয়ে নেন মোটা অংকের অর্থ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, আব্দুর রহিম শুধু তথ্য পাচারকারীই নন, তিনি নিজেই দীর্ঘ দিন ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। থানার সরকারি কর্মচারী হওয়ার সুবাদে তিনি অনেকটা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে নিজের সাম্রাজ্য বিস্তার করে চলেছেন। স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে তার নিয়মিত উঠাবসা এবং মাদক সেবনেরও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি বাদঘাটা গ্রামের মৃত জাহের আলীর ছেলে আইলু নামক এক মাদক কারবারির সাথে ৭০ হাজার টাকার মাদক সংক্রান্ত পাওনা নিয়ে আব্দুর রহিমের প্রকাশ্যে বিরোধের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আব্দুর রহিম তার এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য স্থানীয় দালাল ও অসাধু চক্রের সহায়তা নেন। থানায় আসা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে তিনি বিভিন্ন অফিসারদের নাম ভাঙিয়ে তদন্ত নিষ্পত্তি করার প্রলোভন দেখান। থানার প্রশাসনিক সুরক্ষার ছত্রছায়ায় থাকায় সাধারণ মানুষ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পায়। সাবেক অনেক ওসি তাকে প্রশ্রয় দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে, যা তাকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে যে, আব্দুর রহিমের আসল চেহারা উন্মোচনে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার ও খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মহোদয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপে তার ‘ডোপ টেস্ট’ (মাদকাসক্তি পরীক্ষা) করানো অত্যন্ত জরুরি। ডোপ টেস্ট করলেই তার মাদক সেবন ও কারবারের সত্যতা বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, একজন সরকারি কর্মচারী হয়েও তিনি যে মাত্রায় প্রশাসনিক ক্ষমতা ও সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে মাদকের মরণ নেশা ও দালালি চক্র পরিচালনা করছেন, তা পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। অবিলম্বে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহিত প্রদান এবং বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে শ্যামনগরের মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আব্দুর রহিমের এই অপতৎপরতা বন্ধে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনের কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews