
মোঃ মেহেদী হাসান, সম্পাদক ও প্রকাশক
উপকূলীয় সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের লাখ লাখ মানুষের সুপেয় পানি, ভঙ্গুর বেড়িবাঁধ ও যোগাযোগের মতো অতীব জরুরি উন্নয়ন কাজকে একপাশে ঠেলে জাতীয় সংসদে বাঘ বিধবা ও বিধবা নারীদের সরকারি ভাতার দাবিতে সোচ্চার হওয়া বর্তমান সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের আসল রূপ প্রকাশ পেয়েছে।
রাজধানী ঢাকার মগবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে হাতেনাতে ধরা পড়ার পর এবং তার চরম নৈতিক অবক্ষয় ও অনৈতিক সম্পর্কের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলায় তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনা প্রকাশের পর শ্যামনগরসহ দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং সচেতন মহল তার চরম নৈতিক স্খলন ও নারী বিষয়ক অভিসন্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
শ্যামনগর একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত অঞ্চল, যেখানে টেকসই বেড়িবাঁধ গঠন এবং হাজারো উন্নয়ন কাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে। অথচ প্রথম সংসদ অধিবেশনে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম এসব জনগুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত দাবি বাদ দিয়ে ‘বাঘ বিধবা’ ও সাধারণ বিধবা নারীদের আর্থিক সহযোগিতা এবং ভাতা দেওয়ার বিষয়ে সংসদে জোরালো বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
সে সময় অনেকেই এটাকে তার উদারতা মনে করলেও, সাম্প্রতিক নারী ঘটিত কেলেঙ্কারির পর এলাকার সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিকদের মতামত পুরোপুরি বদলে গেছে। স্থানীয়দের মতে:
“যিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে অসামাজিক কাজে লিপ্ত ছিলেন, তিনি জনসম্মুখে ও সংসদে বিধবা নারীদের নিয়ে এত সোচ্চার ছিলেন কেন—তা এখন স্পষ্ট। হাজারো উন্নয়ন কাজ ফেলে রেখে নারীদের আর্থিক লেনদেন বা ভাতার দিকে তার এই অতিরিক্ত আগ্রহের পেছনে যে ভিন্ন কোনো মনস্তাত্ত্বিক বা অনৈতিক অভিসন্ধি লুকিয়ে ছিল, তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডেই তা প্রমাণিত।”
অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি রাজধানীর মগবাজার এলাকার একটি নামী আবাসিক হোটেলে এক তরুণীকে নিয়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় হাতেনাতে ধরা পড়েন প্রবীণ এই সংসদ সদস্য। পরবর্তীতে ওই হোটেলের রেজিস্টারপত্র ও সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনা ধামাচাপা দিতে তিনি প্রথম দিকে বিষয়টিকে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও’ বলে চালানোর অপচেষ্টা চালান। তবে ভিডিও ও প্রমাণের সততা নিশ্চিতে যখন তিনি ব্যর্থ হন, তখন বিষয়টিকে ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজী মাওলানা বাকী বিল্লাহর স্বাক্ষরিত একটি বিয়ের কাবিননামা প্রদর্শন করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কাজীর অসংগতিপূর্ণ বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, নিজের অপরাধ ঢাকা দিতে ভুয়া নথি প্রস্তুত ও তথ্য গোপনের জালিয়াতিতে লিপ্ত হয়েছিলেন তিনি।
স্থানীয়দের প্রধান ক্ষোভের জায়গা হলো—বর্তমান এই প্রবীণ এমপি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সভায় নারীদের পর্দা রক্ষা, সামাজিক শৃঙ্খলার নসিহত দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু পর্দার আড়ালে নিজেই দীর্ঘদিন ধরে নারীঘটিত বিভিন্ন অনৈতিক কাজে লিপ্ত ছিলেন বলে সিসিটিভি ফুটেজ ও দলীয় তদন্তের প্রমানে উঠে এসেছে।
তার এমন দ্বিমুখী আচরণ, প্রবীণ বয়সে এসে অনৈতিক খেলায় মেতে ওঠা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া তার চরম নীতিহীনতাকেই দেশবাসীর সামনে উন্মোচিত করেছে।
দলীয় বিশেষ তদন্ত কমিটি মগবাজারের হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ, হোটেলের কর্মচারী এবং প্রবীণ সাক্ষীদের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে নৈতিক স্খলনের চূড়ান্ত সত্যতা পায়। ফলে দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় জামায়াতে ইসলামী তাকে অবিলম্বে সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করে।
একদিকে সংসদে উন্নয়ন বাদ দিয়ে বিধবা ইস্যু নিয়ে সোচ্চার হওয়া, অন্যদিকে ঢাকায় হোটেলে নারীসহ ধরা পড়া—সব মিলিয়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সচেতন জনগণ তাকে একজন চরম নীতিহীন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তার সংসদ সদস্য পদ থেকে প্রকাশ্যে পদত্যাগ ও আইনি শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।