রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৪:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কক্সবাজার সীমান্তে ইয়াবা পাচার ঠেকাতে বিজিবির ড্রোন ও অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি টেকনাফে কোস্ট গার্ডের মাদকবিরোধী অভিযান: ৪০ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক শ্যামনগরে কনস্টেবল মেহেদীর বিরুদ্ধে লাগাতার মাদক সেবনের অভিযোগ দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি, ডোপ টেস্টের আহ্বান সাতক্ষীরার নারী জেলা প্রশাসককে নিয়ে সংসদে কটূক্তির প্রতিবাদে তালায় মানববন্ধন মাদকের বিরুদ্ধে যখন উত্তাল সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ, তখনই ভাইরাল স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার কথিত ইয়াবা সেবনের ভিডিও! জনমনে তীব্র ক্ষোভ শ্যামনগরে মা’য়ের দাঁত ভাঙলো ছেলে শ্যামনগরে যৌতুকলোভী আজিজুল হক আকাশ গ্রেফতার ডুমুরিয়ার খর্ণিয়া ইউপি নির্বাচন: দলীয় প্রতীক না থাকায় বাড়ছে প্রার্থীর ভিড়, মাঠে নামছেন এক ডজন সম্ভাব্য প্রার্থী ফরিদপুরে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সাথে বিএমডিএ চেয়ারম্যানের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত টেকনাফে ইউএনওর উপস্থিতিতে এনজিও কার্যক্রম ও সীমান্ত উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময়, ঝিমংখালী বিজিবি ক্যাম্প পরিদর্শন

মানুষকে কলঙ্কিত করা—মিথ্যা অপবাদের অপরাধ ও শাস্তি।

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৮১ বার পড়া হয়েছে

মুফতি মাওলানা শামীম আহমেদ:-

মানুষের সম্মান, মর্যাদা ও সুনাম রক্ষা করা ইসলামের অন্যতম মৌলিক শিক্ষা। ইসলাম এমন এক জীবনব্যবস্থা, যা কেবল ইবাদত নয়—সমাজে ন্যায়, সত্য ও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেয়। তাই ইসলাম মিথ্যা অপবাদ বা কারও বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন—

“যে ব্যক্তি কোনো শালীন নারীর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ তোলে অথচ চারজন সাক্ষী উপস্থিত করতে পারে না, তবে তাদের আশি বেত্রাঘাত করো এবং তাদের সাক্ষ্য কখনো গ্রহণ করো না; তারাই পাপী।”
সূরা আন-নূর, আয়াত ৪)

এই আয়াত শুধু নারীর ব্যাপারে নয়—সমাজে কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ বা অপবাদ রটানোর ভয়াবহ পরিণতি বোঝায়। মিথ্যা অপবাদ মানুষের চরিত্রহানি ঘটায়, সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে, এবং নিরপরাধ মানুষকে মানসিকভাবে ধ্বংস করে ফেলে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

“যে ব্যক্তি মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় বা মিথ্যা অভিযোগ তোলে, সে জাহান্নামের আগুনে স্থান লাভ করবে।”
সহিহ মুসলিম)

অপবাদ কেবল কথার অপরাধ নয়, এটি হৃদয়ের পচন। মিথ্যা অপবাদ মানুষকে সমাজচ্যুত করে, বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং ন্যায়বিচারের ভিত নষ্ট করে দেয়। তাই ইসলাম এমন অপরাধীর প্রতি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

আজকের সমাজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা জনসমক্ষে কারও বিরুদ্ধে যাচাই ছাড়া অপবাদ দেওয়া ক্রমেই বেড়ে চলেছে। অথচ ইসলাম শিক্ষা দেয়—“তুমি যা শুনবে, তা যাচাই করো; অন্যথায় তুমি অজ্ঞতার কারণে কোনো জাতিকে ক্ষতি করতে পারো।” (সূরা আল-হুজরাত, আয়াত ৬)

মিথ্যা অপবাদ প্রদানকারীর শাস্তি শুধু দুনিয়ায় নয়, আখিরাতেও ভয়াবহ। আল্লাহ তায়ালা বিচার দিবসে প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি অভিযোগের হিসাব নেবেন। সেদিন জবান, হাত, এমনকি দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গও সাক্ষ্য দেবে—কে কার সম্মান নষ্ট করেছে।

মিথ্যা অপবাদ কোনো সাধারণ ভুল নয়; এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক মারাত্মক রূপ। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি পাপ, ন্যায়বিচারের পরিপন্থী, এবং সমাজ ধ্বংসের কারণ। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত জবানকে সংযত রাখা, সত্য যাচাই করে কথা বলা, ও মানুষের সম্মান রক্ষা করা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews