মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পুলিশি শৃঙ্কলা ও নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ বকশী হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি সাতক্ষীরায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় বৃক্ষমেলা ও বৃক্ষরোপণ অভিযানের সমাপ্তি খুলনা মহানগরীর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়ন নিয়ে কেসিসি প্রশাসকের পরামর্শ সভা দুই বছর আগে খনন, ফের খাল খননে ৫১ লাখ টাকা! কেশবপুরে ‘প্রকল্প লুটের’ অভিযোগ মুন্সিগঞ্জে বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জব্দ, পরে পুড়িয়ে ধ্বংস গোদাগাড়ীতে ১০০গ্রাম হেরোইনসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার, পলাতক ১ গোদাগাড়ীতে ৪০০ বোতল এসকাফ মাদকদ্রব্য উদ্ধার মাদারীপুরের ডাসার ইউনিয়নে উন্মুক্ত ওয়ার্ড সভায় গ্রাম আদালত নিয়ে আলোচনা  সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসকের সাথে দুই সংসদ সদস্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ জেলার উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় গাজী নজরুলের এমপি পদ সিদ্ধান্ত নিতে ইসিকে চিঠি দিচ্ছে সংসদ সচিবালয

পুলিশি শৃঙ্কলা ও নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ বকশী হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদন

 

সততা, নিষ্ঠা ও জনগণের সেবার ব্রত নিয়ে পুলিশ বাহিনী কাজ করলেও সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানায় কর্মরত কনস্টেবল (বকশী) হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে উঠেছে একের পর এক অনিয়ম, নারী ঘটিত কেলেঙ্কারি ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ। বাগেরহাট, ঝিনাইদহ থেকে শুরু করে সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও বর্তমানে আশাশুনি—যেখানেই তিনি কর্মরত ছিলেন, সেখানেই জড়িয়েছেন নানা বিতর্ক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে।

 

গত ৫ই আগস্ট সরকার পতনের পর শ্যামনগর থানায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে নতুন ওসি যোগদান করলে থানার দাপ্তরিক ও দৈনন্দিন কাজকর্ম সচল করার অজুহাতে বকশী হুমায়ুন কবির স্থানীয় বিভিন্ন দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল বাকিতে কেনাকাটা করেন। পরবর্তীতে বেশ কিছু দোকানের পাওনা পরিশোধ করা হলেও এখনও ‘আল মদিনা অ্যালুমিনিয়াম হাউজ’ ও হাইবাদপুরের ‘মেসার্স মৌসুমী কনস্ট্রাকশন’সহ একাধিক দোকানের বকেয়া টাকা শোধ করেননি তিনি। পাওনাদাররা টাকার জন্য যোগাযোগ করলে তিনি তাদের নানাভাবে হয়রানি ও বিভ্রান্ত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে নারীঘটিত কেলেঙ্কারির ইতিহাস সুদীর্ঘ। ২০১৯ সালে বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ থানায় বকশী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নারী কনস্টেবল নাসিমাকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে তাকে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। পরবর্তীতে তাকে তাফালবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পে এবং সেখান থেকে ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু থানায় বেতার অপারেটর হিসেবে বদলি করা হয়।

পরবর্তীতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানায় বকশী হিসেবে যোগদানের পরও তার স্বভাব বদলায়নি। সেখানে একাধিক নারী কনস্টেবলকে যৌন হয়রানি ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হলে তাকে খেশরা পুলিশ ক্যাম্পে বদলি করা হয়। বর্তমানে আশাশুনি থানায় কর্মরত থাকাকালেও নারী কনস্টেবল লিমার সাথে তার অবৈধ পরকীয়া সম্পর্কের খবর ফাঁস হয়েছে।

 

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে নারী কনস্টেবল লিমা বর্তমানে সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনে ‘পিডি’ (পানিশমেন্ট ড্রিল) খাটছেন। পুলিশের প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী কোনো সদস্য ডিউটির বাইরে থাকলে বা সাজাপ্রাপ্ত হলে তা ডিউটি রোস্টারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকার কথা। কিন্তু প্রশাসনিক নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে ডিউটি চার্টে লিমাকে ‘রেগুলার অফিসে কর্মরত’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

এছাড়া, বিগত কয়েক মাস আগে সরকারি কোনো কাজে না গিয়েও ভূয়া টিএ/ডিএ বিল (TA/DA Bill) উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে। বিষয়টি তৎকালীন তালা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান তদন্ত করে সত্যতা পান।

 

অভিযোগ রয়েছে, নিজের অপরাধ ও অপকর্ম ঢাকতে বকশী হুমায়ুন কবির রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করেন। বিভিন্ন সময়ে থানার ওসি ও স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ‘ম্যানেজ’ করে তিনি পুলিশ সুপারকে দিয়ে সুপারিশ করাতেন। শ্যামনগর থানায় কর্মরত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠলে বদলি এড়াতে তিনি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামাতের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে দিয়ে তৎকালীন পুলিশ সুপার আরফিন জুয়েলকে ফোন করিয়ে সুপারিশ করান বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। একজন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হয়েও নিজ স্বার্থে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ব্যবহার করে প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টির বিষয়টি পুলিশের চাকরি বিধিমালার চরম লঙ্ঘন।

 

একজন দায়িত্বরত কনস্টেবল হয়েও দিনের পর দিন সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ, নারী সহকর্মীদের হয়রানি, দাপ্তরিক জালিয়াতি এবং রাজনীতি চর্চার মতো গুরুতর অপরাধে লিপ্ত থাকায় স্থানীয় জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

হুমায়ুন কবিরের এসব অপরাধের কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই অবিলম্বে এই বিতর্কিত কনস্টেবলকে আশাশুনি থানা থেকে অপসারণ, দ্রুত বদলি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় মামলা রুজু করার জন্য মাননীয় ডিআইজি (খুলনা রেঞ্জ) এবং মাননীয় পুলিশ সুপার (সাতক্ষীরা) মহোদয়ের আশু হস্তক্ষেপ ও জরুরি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews