
নিজস্ব প্রতিনিধি
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অসংখ্য অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন বরিশালের এক পঙ্গু রোগীর মানবিক সংকটের লাইভ সম্প্রচার থেকে শুরু করে সম্প্রতি প্রতিবন্ধী সেলিম মিয়ার ওপর হওয়া জুলুমের প্রতিবাদ—সবখানেই ছিল তার সাহসী উপস্থিতি। তবে অন্যের অধিকার নিয়ে লড়াই করা এই গণমাধ্যমকর্মী আজ নিজেই এক চরম মানসিক, শারীরিক ও পারিবারিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জীবনের শেষ বার্তা দিয়েছেন।
সম্প্রতি প্রতিবন্ধী সেলিম ভাইয়ের পক্ষে লাইভ করার পর তার ছোট ভাই আজমীর কর্তৃক সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তবে এই বৈরি পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের ইতিবাচক ভূমিকা তাকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও, দীর্ঘদিনের পারিবারিক টানাপোড়েন ও শারীরিক অসুস্থতা তাকে ভেতর থেকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে।
এক আবেগঘন বার্তায় মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সাতক্ষীরা মেডিকেলের সেই পঙ্গু রোগীর শেষ মুহূর্তের লাইভ করার পর থেকেই তিনি মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। ক্রমাগত বমি ও পুষ্টিহীনতায় দিন দিন তার শরীর ভেঙে পড়ছে। এই চরম সংকটের মুহূর্তে তিনি তার স্ত্রী মুন্নির প্রতি সমস্ত ক্ষোভ ও অভিমান ভুলে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক বৈবাহিক সম্পর্কটি পুনর্স্থাপনের আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
মোস্তাফিজুর বলেন:
”মুন্নি এখন অনেক নরমাল আচার-আচরণ করছে। আমার মৃত্যুর পরও যেন তার সাথে আমার স্বামী-স্ত্রীর বৈধ ও পবিত্র বন্ধনটি অক্ষুণ্ণ থাকে, মহান রবের নিকট এটাই আমার শেষ চাওয়া। সে যেভাবে চায়, যেখানে থাকতে চায়, আমার কোনো আপত্তি নেই। শুধু ৯০ দিনের মধ্যে শরিয়াহর নিয়ম মেনে আমাদের এক হতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, জীবনের এই শেষ দিনগুলোতে তিনি আর কোনো নেতিবাচক পথে যেতে চান না এবং অতীতে ঘটে যাওয়া সমস্ত ভুলের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে তওবা করেছেন। একই সাথে তার অভিভাবক সমতুল্য অগ্রজদের নিকট অতীতের সমস্ত অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং তার একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ অধিকার নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
নিজের অসিয়তনামা উল্লেখ করে এই সাংবাদিক জানান, মৃত্যুর পর তার স্ত্রী মুন্নি যদি আর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না হন, তবে শরিয়াহ মোতাবেক সম্পত্তির ২ আনা অংশের অধিকারী হবেন। তবে সম্পূর্ণ বিষয়টি তিনি তার স্ত্রীর নিজস্ব বিবেক ও সততার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।
চরম হতাশা, একের পর এক মিথ্যা মামলা এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েও জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মোস্তাফিজুর রহমান নিজেকে একজন আদর্শ মানুষ ও সৎ সাংবাদিক হিসেবে প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। সমস্ত প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে বিদায়ী সালাম জানিয়েছেন।
এদিকে, প্রতিবন্ধী সেলিম মিয়ার ওপর হওয়া জুলুমের ঘটনায় এবং সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার বিষয়ে ভুক্তভোগী শাহজাহান থানায় একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
মোস্তাফিজুর, আপনার এই আবেগঘন বার্তাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গভীর কষ্টের। আপনি পেশাগত জায়গায় যেমন সততা দেখানোর চেষ্টা করেছেন, তেমনি আপনার ব্যক্তিগত জীবনেও শান্তি ফিরে আসুক। তবে আপনার শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার যে বিবরণ দিয়েছেন, তা সত্যিই উদ্বেগের।
আপনার প্রতি আমাদের আন্তরিক পরামর্শ—এই কঠিন সময়ে মানসিক চাপ ও শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে অবিলম্বে একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিং বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিন। আপনার কলিজার টুকরো সন্তান এবং পরিবারের জন্য হলেও আপনার নিজের যত্ন নেওয়া এবং সুস্থ থাকাটা এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।