
বিশেষ প্রতিনিধি
সম্প্রতি বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও সংবাদমাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলার মাহমুদপুর গোয়ালপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইসরাফিলের বিরুদ্ধে প্রকাশিত “আসছে মাদক যাচ্ছে স্বর্ণ নেপথ্যে ইসরাফিল” শীর্ষক সংবাদটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল ও ভুক্তভোগীর পরিবার। কোনো ধরনের নির্ভরযোগ্য দালিলিক প্রমাণ ছাড়া, সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একজন বৈধ ব্যবসায়ীকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে এই বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রকাশিত সংবাদে ইসরাফিলের নিজস্ব কোটি কোটি টাকার বিলাসবহুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, বাড়ি-গাড়ি এবং অঢেল জমিজমার যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, বাস্তবতার সাথে তার কোনো মিল নেই। প্রকৃতপক্ষে তার নিজস্ব কোনো বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি নেই। তিনি একজন পেশাদার মৎস্য ও খামার ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নবাতকাটি এলাকায় ১০ বিঘা মৎস্য ঘের, আলিপুর ডাকাত পোতা ব্রিজের পাশে ১৪ বিঘা ফসলি জমি এবং বকচরা এলাকায় ২৫ বিঘা ফসলি জমি ও মুরগির খামার স্থানীয় প্রকৃত জমির মালিকদের কাছ থেকে বার্ষিক চুক্তিভিত্তিক নির্দিষ্ট মূল্যে ‘হাড়ি’ (ভাড়া বা লিজ) নিয়ে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। লিজ নেওয়া জমিতে কষ্টার্জিত ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা একজন নাগরিককে রাতারাতি ‘অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়া চোরাচালানি’ হিসেবে চিত্রায়িত করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হাস্যকর।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইসরাফিল এলাকায় মাদক ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার থাকায় স্থানীয় একটি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরই জের ধরে, কিছুদিন পূর্বে ওই মাদক চক্রটি গভীর রাতে ইসরাফিলের বাড়িতে প্রবেশ করে অবৈধ মাদকদ্রব্য রেখে তাকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করানোর একটি সুপরিকল্পিত নীল নকশা তৈরি করে।
তবে চক্রটির এই জঘন্য চক্রান্ত সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়, কারণ তাদের মাদক রাখার পুরো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডটি ইসরাফিলের বাড়ির সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরায় পরিষ্কারভাবে ধরা পড়ে। মাদক দিয়ে ফাঁসানোর এই অকাট্য সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও চিত্র বর্তমানে স্থানীয় সাংবাদিকদের হাতে রয়েছে।
পরবর্তীতে ওই কুচক্রী মহলটি নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে ইসরাফিলকে কৌশলে পলাতক আসামি দেখিয়ে একটি মাদক মামলা দায়ের করায়, যা বর্তমানে বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আদালতে বিচারাধীন এই মামলায় ইসরাফিলের বিরুদ্ধে অবৈধ কোনো কর্মকাণ্ডের ন্যূনতম তথ্য-প্রমাণ নেই। মূলত সিসিটিভি ফুটেজে নিজেদের অপরাধ ফাঁস হয়ে যাওয়ায় এবং আইনি লড়াইয়ে নিশ্চিত পরাজয় জেনে, ওই মাদক সিন্ডিকেটটি গণমাধ্যমকে ভুল ও মনগড়া তথ্য সরবরাহ করে এই মানহানিকর সংবাদটি প্রকাশ করিয়েছে।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য,এই বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায়ী ইসরাফিল বলেন,
“আমি বিভিন্ন এলাকায় জমি হাড়ি (লিজ) নিয়ে ঘের ও মুরগির খামারের ব্যবসা করে সততার সাথে জীবনযাপন করছি। মাদক সিন্ডিকেটের অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তারা আমার বাড়িতে মাদক দিয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিল, যার ভিডিও ফুটেজ সাংবাদিকদের কাছেও আছে। সেই চক্রান্তে ব্যর্থ হয়ে তারা আমাকে পলাতক আসামি দেখিয়ে একটি ভিত্তিহীন মামলা দিয়েছে। আদালতের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং আইনিভাবেই আমি নির্দোষ প্রমাণিত হব।”
আমাদের বক্তব্য,সাংবাদিকদের হাতে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর স্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ থাকা এবং জমির বৈধ লিজের কাগজপত্র থাকার পরও, একজন বৈধ ব্যবসায়ীকে অপরাধী হিসেবে প্রচার করা সাংবাদিকতার প্রচলিত নীতিমালা ও নৈতিকতার পরিপন্থী। এই বিভ্রান্তিকর সংবাদের তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ওই মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।