বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দেবহাটা উপজেলা ছাত্রদলের আয়োজনে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ  কলারোয়ায় ৩৭৬ হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা দূর ও ২৫০০ কৃষক পরিবারের ভাগ্যবদলে খালের কচুরিপানা পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন  শ্যামনগরে নামজারি ও জমি ইজারায় দুর্নীতি নায়েব গগন ও ঝাড়ুদার জিতেনের সিন্ডিকেটে জিম্মি বুড়িগোয়ালিনী বেতাগীর কাজীরহাট বাজার দখল, নোংরা পরিবেশ ও অব্যবস্থাপনায় বদলাচ্ছে না বাজারের চিত্র   সাতক্ষীরায় প্রকাশ্যে ক্ষতিকারক ‘ডেনড্রাইট’ আঠা সেবন ঝুঁকিতে কিশোর ও যুবসমাজ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা তালার উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা, এক বছরের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা চালুর ঘোষণা হাবিবের শ্যামনগরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু পুলিশি শৃঙ্কলা ও নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ বকশী হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি সাতক্ষীরায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় বৃক্ষমেলা ও বৃক্ষরোপণ অভিযানের সমাপ্তি খুলনা মহানগরীর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়ন নিয়ে কেসিসি প্রশাসকের পরামর্শ সভা

ভাই, আমাকে ফেলে যেও না, আমি এখনো বেঁচে আছি — সুন্দরবনের বাঘের মুখে জেলে টাইগার কামালের লড়াই

  • প্রকাশিত: সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৭২ বার পড়া হয়েছে

মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন শ্যামনগর উপজেলা ক্রাইম রিপোর্টার

সুন্দরবনের গহীনে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

সুন্দরবনের নদী-খাল পেরিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন টাইগার কামাল, সরকারি অনুমতিপত্র নিয়েই। ভাটার সময় খালে জাল পেতে রেখে জোয়ারের সময় তা সামলে আসছিলেন তিনি ও তাঁর সঙ্গী। হঠাৎই ঘটে যায় এক ভয়ংকর ঘটনা।

হঠাৎ বাঘের আক্রমণ

ক্লান্ত শরীরটা একটু সোজা করার জন্য দাঁড়াতেই কামালের চোখে পড়ে ১০-১২ হাত লম্বা এক রয়েল বেঙ্গল টাইগার! মুহূর্তেই বাঘ ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁর উপর। নদীর চরের নরম কাদায় পড়ে যান কামাল। বাঘ তাকে চেপে ধরে রাখে।

মৃত্যুর মুখে জীবনযুদ্ধ

৪০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে বাঘ কামালকে কাদায় চেপে ধরে রাখে। শ্বাস নিতে কষ্ট, কান বন্ধ, চারদিকে নিস্তব্ধতা। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। সঙ্গীকে বলেন—
“ভাই, আমাকে ফেলে যেও না, আমি এখনো বেঁচে আছি।”

ভয়ংকর থাবার আঘাত

একপর্যায়ে বাঘ আবার ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রথম থাবা চোখ থেকে মাথা পর্যন্ত, দ্বিতীয় থাবা মাথার অন্য পাশে, আর কয়েকটি থাবা বুক চিরে দেয়। রক্তাক্ত অবস্থাতেও কামাল প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যান।

চোখে কাদা ছুড়ে মারার কৌশল

সাহসিকতার সঙ্গে দুই হাত দিয়ে তিনি বাঘের গলা চেপে ধরেন। আর সঙ্গীকে বলেন—
“বাঘের চোখে কাদা ছুড়ে মারো।”
সঙ্গী মরিয়া হয়ে কাদা ছুড়তে থাকেন। একসময় কাদায় চোখ ঢেকে যায় বাঘের। অন্ধ হয়ে যাওয়া বাঘ অবশেষে বনের দিকে ছুটে যায়।

জীবন ফিরে পাওয়া

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন টাইগার কামাল। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে সঙ্গী নৌকায় তুলে নেন। প্রায় দুই ঘণ্টা নৌকা বেয়ে অবশেষে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

রক্তাক্ত স্মৃতি, অদম্য সাহস

সেই দিনের পর থেকে টাইগার কামালের জীবনে নেমে আসে কালো ছায়া। মাথা, মুখ ও বুকে এখনো রয়েছে বাঘের নখের দাগ। ভয়ংকর সেই রাত তাঁকে আজও তাড়িয়ে বেড়ায়।

আজকের টাইগার কামাল

তবুও তিনি অদম্য সাহসের কারণে সুন্দরবনের মানুষের কাছে কিংবদন্তি। সবার কাছে তিনি এখন “টাইগার কামাল”—বাঘের মুখ থেকে বেঁচে ফেরা এক জীবন্ত প্রতীক।

দ্বিতীয় পর্বে জানানো হবে, আজ তিনি কেমন আছেন, কোথায় আছেন, এবং কীভাবে এই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার পর জীবন কাটাচ্ছেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews