ত্যাগের মহিমায় তিন প্রজন্ম বাবা দিবসে এক পরম আশ্রয়ের উপাখ্যান

মোঃ মেহেদী হাসান, সম্পাদক ও প্রকাশক
আজ বিশ্ব বাবা দিবস। ‘বাবা’—কেবল একটি শব্দ নয়; এক বিশাল আকাশ, এক পরম নির্ভরতা এবং নিঃস্বার্থ ত্যাগের এক জীবন্ত মহাকাব্য। নিজের জীবনের সমস্ত রঙ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে, রোদ-বৃষ্টি-ঝড় মাথায় নিয়ে, কখনো খেয়ে না খেয়ে যিনি সন্তানকে আগলে রাখেন, তিনিই বাবা। আজ এই বিশেষ দিনে ত্যাগের সেই চিরন্তন মহিমাকে ধারণ করে এক অনন্য ও আবেগঘন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এক পরিবারের তিন প্রজন্ম।
মোঃ এবাদুল মোল্লা, তাঁর সুযোগ্য সন্তান মোঃ মেহেদী হাসান এবং মেহেদী হাসানের শিশুপুত্র মোঃ আবু রায়হান। এই তিন পুরুষের একই ছাদের নিচে একসাথে পথচলা এবং একে অপরের ছায়ায় বেড়ে ওঠা যেন চলতি বছরের বাবা দিবসের সবচেয়ে সুন্দর ও অনুকরণীয় এক পারিবারিক চিত্র।
পারিবারিক জীবনের এই সুন্দর মেলবন্ধন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মোঃ মেহেদী হাসান। তিনি নিজে আজ একজন সফল পিতা হলেও, নিজের বাবার অবদানের কথা স্মরণ করে বলে
“বাবা মানেই এক পরম ত্যাগের মহিমা। আজ আমি নিজে একজন বাবা হয়ে প্রতিনিয়ত উপলব্ধি করতে পারছি, সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করতে একজন পিতাকে কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। আমাদের একটু ভালো রাখার জন্য, আমাদের মুখে অন্ন তুলে দিতে আমার বাবা মোঃ এবাদুল মোল্লা নিজের জীবনের সব সুখ বিসর্জন দিয়েছেন। আমাদের মানুষ করতে তিনি যে কষ্ট করেছেন, তা কখনো ভুলবার নয়।”
মেহেদী হাসান আজ শুধু একজন সন্তানই নন, তিনি নিজেও একজন বাবা হিসেবে তাঁর সন্তান মোঃ আবু রায়হানের মাঝে সেই একই মূল্যবোধ ও ভালোবাসার বীজ বুনে দিচ্ছেন, যা তিনি তাঁর বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন।
যান্ত্রিক সভ্যতার এই যুগে যেখানে যৌথ পরিবারগুলো ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে, সেখানে একই সাথে তিন প্রজন্মের এই সহাবস্থান ও আত্মিক টান সত্যিই এক বিরল সৌভাগ্যের প্রতীক।
এই বিশেষ দিনে সৃষ্টিকর্তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মেহেদী হাসান বলেন—
“মহান আল্লাহর দরবারে লাখো শুকরিয়া যে তিনি আমাদের তিন পুরুষকে একসাথে সুস্থ ও সুন্দরভাবে রেখেছেন। এই বাবা দিবসে আল্লাহর কাছে আমার একটাই আকুতি—তিনি যেন আমার বাবা মোঃ এবাদুল মোল্লার হায়াত দারাজ করেন এবং আমার সন্তান আবু রায়হানের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল ও দীর্ঘায়ু করেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যেন এই পরম আশ্রয়কে ‘বাবা’ বলে ডাকতে পারি। বাবা, তুমি ছাড়া আমাদের জীবনের পূর্ণতা আর কোথাও নেই।”