
নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ‘মাসুম কম্পিউটার এন্ড ডিজিটাল ফটোকপি’র আড়ালে ভয়ংকর সব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে মোঃ মাসুম (২৮) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীদের উত্যক্ত করা, বিয়ের প্রলোভনে ধর্মান্তরিত করা থেকে শুরু করে খোদ সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি ও ডিজিটাল মাধ্যমে অপপ্রচারের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এই বখাটে যুবক। অভিযুক্ত মাসুম মুন্সিগঞ্জ এলাকার মোঃ শহিদুল ইসলামের ছেলে।
ঘটনার শুরু তপোবন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী সুকুমার মন্ডলের পরিবারকে ঘিরে। অভিযোগ অনুযায়ী, সুকুমার মন্ডলের মেয়ে মোহনা রানী মন্ডল (১৮) মাসুমের দোকানে কম্পিউটার শিখতে গেলে তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং বিয়ের প্রলোভনে ফুসলিয়ে ধর্মান্তরিত করে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পিতাকে ০১৯১৪-৩১৪১১০ নম্বর থেকে কল করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও বিভিন্ন অপরাধমূলক হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সুকুমার মন্ডল বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাসুমের অসামাজিক কার্যকলাপের ইতিহাস দীর্ঘ। কিছুদিন আগে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের কুলতলী গ্রামের (ঘাইনঘর এলাকা) শীবনাথের মেয়ের সাথে গভীর রাতে দেখা করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে মাসুম। উত্তেজিত জনতা তাকে অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে গণপিটুনি দিয়ে পরবর্তীতে তার চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেয়। এই ঘটনা এলাকায় তার চারিত্রিক স্খলনের বিষয়টি জনসমক্ষে নিয়ে আসে।
থানায় অভিযোগ হওয়ার পর মাসুম আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সে সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সভাপতি বেলাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহসহ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে প্রকাশ্যে গালিগালাজ ও হামলার হুমকি দেয়। শুধু তাই নয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের সাথে তর্কে লিপ্ত হয় এবং সেই ঘটনার ভিডিও কৌশলে এডিট (কাটছাঁট) করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে। সাংবাদিকদের সম্মানহানি ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর এই ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, মাসুমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে নারীদের ছবি বিকৃত করে ব্ল্যাকমেইল করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও
গত রমজান মাসে নিজ পিতাকে বেধড়ক মারপিট করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল।তেল সংকটের সময় শ্যামনগর থানার ডিএসবির কর্মরত সদস্য সুমনের সাথে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও দুর্ব্যবহারের রেকর্ড রয়েছে তার।
কম্পিউটার ব্যবসার আড়ালে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল করে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
মাসুমের এসব ধারাবাহিক অপরাধের কারণে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় স্থানীয় সুধী সমাজ ও সাংবাদিকরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবিলম্বে এই চিহ্নিত ব্ল্যাকমেইলার ও বখাটের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শ্যামনগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং আসামির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমাদের অনুসন্ধানী টিমের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে; মাসুমের অন্ধকার জগতের আরও নতুন তথ্য নিয়ে চোখ রাখুন পরবর্তী প্রতিবেদনে…