
মোঃ সাইফুল ইসলাম, গাবুরা প্রতিনিধি
সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার জলবায়ু ও জীবিকার নানামুখী সংকটে থাকা ৩১টি ‘বাঘ বিধবা’ পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে এগিয়ে এসেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ইয়ুথ ফর বাংলাদেশ’। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ছাগল বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরার গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন এবং খুলনার কয়রা উপজেলার তালিকাভুক্ত ৩১টি বাঘ বিধবা পরিবারের প্রত্যেককে দুটি করে ছাগল দেওয়া হয়। সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চরম আর্থ-সামাজিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছেন এসব নারীরা। মূলত ছাগল পালনের মাধ্যমে তাদের একটি টেকসই আয়ের পথ তৈরি এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলাই এ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম মাসুদুল আলমের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখক মহাসিন উল হাকিম। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ইয়ুথ ফর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আরিফুর রহমান, সংগঠনের সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতি জি এম মাসুদুল আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“উপকূলের বাঘ বিধবা পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের হাতে সম্পদ হিসেবে ছাগল তুলে দেওয়ার এই উদ্যোগ অত্যন্ত মানবিক ও সময়োপযোগী। এর মাধ্যমে তারা গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি বাড়তি আয় করতে পারবেন, যা পরিবারের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটাবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহাসিন উল হাকিম বলেন,
“সুন্দরবন ও উপকূলীয় মানুষের জীবনসংগ্রাম অত্যন্ত নির্মম ও কঠিন। বাঘের আক্রমণে স্বামী হারিয়ে এই নারীরা শুধু স্বজন হারানোর ব্যথাই বহেন না, বরং তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে পড়েন। তাদের পাশে দাঁড়ানো পুরো সমাজের দায়িত্ব। ইয়ুথ ফর বাংলাদেশের এ উদ্যোগ পরিবারগুলোকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়াত করবে।”
সংগঠনের সার্বিক উদ্দেশ্য তুলে ধরে ইয়ুথ ফর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আরিফুর রহমান জানান, বাঘ বিধবা পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উদ্যোগ প্রয়োজন। ছাগল বিতরণের মাধ্যমে তাঁদের হাতে এমন একটি সম্পদ তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে তাঁদের স্থায়ী আয়ের সুযোগ তৈরি করবে। পর্যায়ক্রমে উপকূলের অন্যান্য অসহায় পরিবারের মাঝেও এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হবে বলে তিনি জানান।
সহায়তা পেয়ে উপকারভোগী বাঘ বিধবা নারীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তারা জানান, এই ছাগল পালন করে তারা দুধ ও বাচ্চা বিক্রির মাধ্যমে বাড়তি আয় করতে পারবেন, যা দিয়ে সন্তানদের লেখাপড়া ও সংসারের নিত্যদিনের খরচ মেটানো সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় পরিবারগুলোর কল্যাণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আত্মকর্মসংস্থানমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে আয়োজক সংগঠনটি নিশ্চিত করেছে।