
নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সাংবাদিকতার পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এক শোকাতুর পরিবারের কাছে চাঁদাবাজি এবং বনদস্যুদের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে কথিত সাংবাদিক আল-আমিনের বিরুদ্ধে গণবিস্ফোরণ ঘটেছে। গত শনিবার (৯ মে) সকালে মুন্সীগঞ্জ এলাকায় হাজারো বিক্ষুব্ধ জনতা এই ‘ভুয়া’ সাংবাদিকের শাস্তির দাবিতে রাজপথে নেমে আসে।
গত শনিবার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব ধানখালী জেলে পাড়ায় মানসিক ভারসাম্যহীন চম্পা রানীর (২৬) আত্মহত্যার পর যখন তার স্বামী শরোজিৎ মন্ডল ও পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ, ঠিক তখনই সেখানে হানা দেন আল-আমিন। নিজেকে ‘দৈনিক দৃষ্টিপাত’ ও ‘সুন্দরবন প্রেসক্লাবে’র প্রভাবশালী সদস্য পরিচয় দিয়ে লাশের ময়নাতদন্ত ও আইনি জটিলতার ভয় দেখিয়ে ওই দরিদ্র পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন তিনি। দীর্ঘক্ষণ চাপ সৃষ্টি করে শোকাতুর পরিবারের ওপর অমানবিক মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন।
আল-আমিনের দ্বৈত পরিচয় নিয়ে স্থানীয়দের মনে চরম ক্ষোভ ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, তিনি এনজিও ‘লিডার্স’-এর একটি স্পিডবোটের মাঝি হিসেবে কাজ করেন। তিনি কখন স্পিডবোট চালান আর কখন সাংবাদিকতা করেন—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ আছে, লিডার্স-এর মতো একটি স্বনামধন্য এনজিওকে জিম্মি করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কর্মরত আছেন এবং স্পিডবোটের তেল চুরিসহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত।
আলামিনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়ংকর অভিযোগটি উঠেছে সুন্দরবনের জলদস্যুদের সাথে তার সরাসরি যোগাযোগ নিয়ে। স্থানীয় জেলে ও বনজীবীদের দাবি, স্পিডবোট চালানোর সুবাদে সুন্দরবনের গহীনে যাতায়াতের সময় তিনি বনদস্যু ‘আলিম বাহিনী’ ও ‘ডন বাহিনী’র তথ্যদাতা এবং সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। বনজীবীরা তার ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না, কারণ তাদের জীবন-জীবিকা সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল।
আলামিনের এই অপকর্মের বিরুদ্ধে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তাকে একজন পেশাদার চাঁদাবাজ হিসেবে অভিহিত করে এলাকাবাসী ইতিমধ্যে সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করেছেন। তবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আলামিন এখনো জনসম্মুখে ক্ষমা তো দূর থাক, বরং দম্ভোক্তি করে বেড়াচ্ছেন।
বিক্ষুব্ধ জনতা জানায়, আলামিন তার অপরাধ আড়াল করতে কিছু সংবাদমাধ্যমে নাটকীয় কায়দায় ‘ভুল তথ্য’ সরবরাহ করে ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তিনি অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন— আলামিন যদি অপরাধী না-ই হবেন, তবে কেন শনিবার হাজার হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হলো?
মিছিল শেষে বিক্ষোভকারীরা সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে আলামিনকে অবিলম্বে বহিষ্কারের দাবি জানান। তারা বলেন, “একজন অশিক্ষিত ও নীতিহীন লোক কীভাবে প্রেসক্লাবের কার্ড পায়? দৃষ্টিপাত পত্রিকা ও প্রেসক্লাবের সুনাম রক্ষার্থেই তাকে দ্রুত প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া উচিত।”
সচেতন মহলের দাবি, আলামিনের মতো লোকের কারণে প্রকৃত সংবাদকর্মীদের ভাবমূর্তি সংকটে পড়ছে। অবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হলে শ্যামনগরের সাধারণ মানুষ বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।