
আবু রায়হান, মণিরামপুর (যশোর):
যশোরের মণিরামপুরে ঘোড়দৌড় মাঠে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা প্রশ্নবিদ্ধ করার ব্যার্থ প্রচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত খেদাপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক নেতা আব্বাস আলী গালদা-হেলান্চী মাঠে ঘৌড়দৌড় প্রতিযোগিতায় সৃষ্ট ঠুনকো ঘঠনায় থেমে যাওয়া বিশৃঙ্খলা গালদার শুকুর আলী সহ স্থানীয় সেচ্চাসেবকদের নির্দেশ অমান্য করে কয়েকজন যুবককে উস্কানি দিয়ে আয়োজকদের মাঝে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করে গোলযোগ বাধিয়ে দেই। যে হট্টোগোলের মাঝে খেদাপাড়া ফাড়ির টু আইসি সহ নিজেদের লোকের বাশের লাঠির আঘাতে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও ঐ প্রতিযোগিতার আয়োজক কমিটির মোঃ আজিবর রহমান নিজেও আঘাত প্রাপ্ত হয়।
শুধুই হামলা না, যুবলীগের আব্বাস আলীর নেতৃত্বে আজিবার রহমানের ছবিযুক্ত সেচ্চাসেবকদের গায়ের জার্সিতেও আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। যার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মণিরামপুর বাসী সহ বিভিন্ন জেলার সচেতন মহলের প্রবীন ব্যাক্তিত্ব। প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক,শনিবার(২৭শে জুন) উপজেলার গালদা-হেলান্চী মাঠে স্থানীয়দের আয়োজনে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় সাওয়ারীর কথায় ঘোড়াকে এক প্রমিলা দর্শনার্থী স্পর্শ করলে বেঁধে যায় হট্টগোল। স্থানীয় বিএনপির নেতা আজিবার রহমান, শান্ত ইসলাম সহ তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখে। দুই গ্রামের উভয় থেমে গেলে হঠাৎ করে এ ঘঠনায় অভিযুক্ত খেদাপাড়া ইউনিয়ন সাবেক যুবলীগ নেতা হেলাঞ্চী সরদার পাড়ার আব্বাস এর নেতৃত্বে গালদা গ্রামের সেচ্ছাসেবক দের উপর হামলা হয়েছে বলে চলতি এ প্রতিবেদকের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে উল্লেখিত ঘঠনায় মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন খড়িন্চি গ্রামের শুকুর আলী। এ ছাড়াও আয়োজক সদস্য,দর্শনার্থী ও খেদাপাড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ সহ সর্বমোট ১৪ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যের ফুটেজ ও সোস্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন শ্রেনীর ব্যাক্তিবর্গের মন্তব্য অনুযায়ী বাঁশের লাঠি সহকারে দুই গ্রামের মধ্যকার এ মারামারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহাসিক টেটা যুদ্ধের সাথে তুলনা করেছেন।
তুচ্ছ ঘঠনায় উস্কানি দিয়ে বিশৃঙ্খলা চেষ্টার অভিযোগের তীর আব্বাস আলীর দিকে ছুড়ে দিয়ে আরেক বিএনপি নেতা শাসমছুজ্জামান শান্ত জানান, আমাদের নিজেদের মধ্য বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চেয়েছিলো। এ বিষয়ে যার সৌজন্য ঐ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় নিজের ছবি যুক্ত জার্সিতে আগুন দেওয়াটা চরম অন্যায় ও দুঃখজনক বলে দাবি করে বিএনপি নেতা মোঃ আজিবার রহমান দু”চোখে টলমল অশ্রু নিয়ে জানিয়েছিলেন, তারা আমার টি শার্টে না শরীরে আগুন দিলেও তরা আমারই এলাকার লোক। তারা হয়তো ভুল করেছে। তিনি আরো বলেন, খেদাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম জিন্নাহ সম্প্রতি পরিষদে যোগদানের পর হতে এলাকাতে বিগত দিনের মতো।আবারও বিশৃঙ্খলা শুরু হয়েছে।
এখনো পর্যন্ত কোন পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি তবে ঘঠনাস্থল পরিদর্শন করেছে মণিরামপুর থানা পুলিশ।