
(সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
চাকুরীর আড়ালে করেন ঠিকাদারি কাজ, উপজেলা প্রকৌশলীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিয়মিত অফিসে না গিয়েও হাজিরা খাতায় শুধু স্বাক্ষর না বরং অলৌকিক অগ্রিম স্বাক্ষরের অভিযোগ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের সিও রেজাওয়ানুল ইসলাম রেজার বিরুদ্ধে। নিজেকে রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক পরিচয়ে দাম্ভিকতা দেখালেও কলেজে পড়াকালীন করতেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির এমন জনশ্রুতি রয়েছে। পড়াশুনার পাশাপাশি পার্ট টাইম চ্যানেল ২৪ অফিসে কাজ করতেন সেই সুবাদে সাংবাদিক পরিচয়ে দাম্ভিকতা দেখিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাসের পর মাস অফিসে না গিয়েও অগ্রিম জাল স্বাক্ষরে হাজিরার প্রমাণ মিলেছে। তার এই কাজে সহযোগিতা করেন তারই অফিসের একজন সহকর্মী জাইকা প্রকল্পের সহকারি প্রকৌশলী রিমন হোসেন । প্রতিদিন তার জায়গায় হাজিরা খাতায় জাল সই করে থাকেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে প্রকৌশলী অফিসের দু,জন কর্মচারী নাম না প্রকাশ করার শর্তে সিও রেজাওয়ানুল ইসলাম রেজার জায়গায় প্রতিদিন জাইকার সহকারি প্রকৌশলী রিমন হাজিরা খাতায় অগ্রিম স্বাক্ষর করে থাকেন বলে জানান। তবে এর সত্যতা জানার জন্য রিমন হোসেনের নিকট একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। গত ঈদুল আজাহার আগে থেকেই উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের সিও (কমিউনিটি অর্গানাইজার) রেজাওয়ানুল ইসলাম রেজা অফিসে না আসার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সরে জমিনে গত ১৬ জুন মঙ্গলবার বেলা ১২ টার দিকে অফিসে গিয়ে হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর সহ ১৭ জুন তারিখেও অগ্রিম হাজিরার স্বাক্ষর পাওয়া যায়। সাথে সাথে এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিক সিও রেজার নিকট ফোন করলে তিনি সাতক্ষীরা অবস্থান করছে বলে জানান। ১৭ জুন বুধবার অফিসে ডেকে এ প্রতিনিধির সামনে অফিসে না এসে হাজিরা স্বাক্ষরের বিষয়টি জানতে চাইলে সিও রেজাওয়ানুল ইসলাম রেজা দাম্ভিকতার সঙ্গে কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও নিজে স্বাক্ষর করেছেন বলে জানালেও উপজেলা প্রকৌশলী সত্যতা পেয়েও কোন ব্যবস্থা নেননি। উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহল। এক সময়কার ছাত্রলীগ কর্মী গত ৫ আগস্টের পর ভোল্ট পাল্টে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলামের হাবিবের নাম ভাঙিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবে উপজেলা প্রকৌশলীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অফিসে না আসা সহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শুধুমাত্র মাস শেষে এল সি এস (লেবার কনস্ট্রাকিং সোসাইটির) কর্মীদের বেতন তৈরির জন্য হাজির থাকেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়াও এলসিএস মহিলা কর্মীরা চাকুরী হারানোর ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান তাদের সঙ্গে অসদাচরণ সহ চাকরি খাওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্যাংকে হিসাব খোলার নাম ভাঙিয়ে প্রত্যেকের নিকট থেকে ৩/৪ হাজার করে টাকা নিয়েছেন বলে জানান। এ ছাড়াও প্রতি মাসে বেতনের সময় অনেকের নিকট থেকে বাড়তি উপঢৌকন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিইও রেজাওয়ানুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে ওঠা এ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অফিসে না এসেও হাজিরা খাতায় নিজে সই করেছেন বলে দাম্ভিকতার সঙ্গে এ প্রতিনিধিকে জানান এবং এলসিএস কর্মীদের নিকট থেকে টাকা পয়সা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। অথচ সরকারি চাকরির আচরণবিধি আইনে নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকা এবং স্বাক্ষর করা বাধ্যতামূলক। এর ব্যত্যয় ঘটলে অবহেলা, অসাদাচরণ হিসাবে গণ্য হবে। যে কারণে কোন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী অফিসে না এসে হাজিরা খাতায় সই করলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান, সাময়িক বহিষ্কার ,বদলি এবং বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার দিনগুলোর জন্য বেতন কর্তনের নিয়ম রয়েছে। এছাড়াও বিভাগীয় ব্যবস্থার জন্য উদ্বোধন কর্তৃপক্ষের নিকট তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করার বিধান থাকলেও উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় ভূমিকা নিয়ে নানান গুঞ্জন উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন এ বিষয়ে এ প্রতিনিধিকে বলেন বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।