
কালিগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের ঠেকরা রহিমপুর গ্রামের ঘের ব্যবসায়ী সঞ্জীব সরকার (৩০) হত্যা মামলার তদন্তে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তার মৃত্যু শ্বাসরোধজনিত হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করা হলেও, মামলার প্রধান আসামিদের এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার তদন্তের ধীরগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
জানা যায়, গত ৩০ জুন বিকেল ৫টার দিকে মাছ ধরার ফাঁদ (আটল) বসানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন সঞ্জীব সরকার। পরদিন ভোরে ঠেকরা মৌজায় একটি মাছের ঘেরের ক্যানেলের পানি ও ঘাসের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের চোখ, ঠোঁট ও গলায় আঘাতের চিহ্নের উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে সম্পন্ন ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে চিকিৎসকরা তার মৃত্যুকে ‘হোমিসাইডাল ডেথ’ (হত্যাজনিত মৃত্যু) হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গলায় লিগেচার মার্কসহ শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়েছে এবং মৃত্যুর আগে শারীরিক নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে।
নিহতের বাবা ও মামলার বাদী গোপাল চন্দ্র সরকার বলেন, আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তেও সেটি স্পষ্ট হয়েছে। কিন্তু এখনো প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমরা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। এদিকে স্থানীয়ভাবে মামলার তদন্ত ও বিভিন্ন দিক নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও, এসব বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুর রহিম জানান, মামলার ৪ নম্বর আসামি নেপাল সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১২ জুলাই তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এছাড়া ১ নং আসামি আনন্দ সরকার, ২ নং আসামি তাপস সরকার ও ৩ নং আসামি শাওন সরকারকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, দ্রুত তাদেরও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত হলে জনমনে আস্থা ফিরে আসবে এবং অপরাধ দমনে ইতিবাচক বার্তা যাবে। অন্যদিকে, তদন্তে বিলম্ব হলে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।নিহতের পরিবার দ্রুত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছে।