বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
খুলনার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পেলেন সরকার ওমর ফারুক দেবহাটা উপজেলা ছাত্রদলের আয়োজনে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ  কলারোয়ায় ৩৭৬ হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা দূর ও ২৫০০ কৃষক পরিবারের ভাগ্যবদলে খালের কচুরিপানা পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন  শ্যামনগরে নামজারি ও জমি ইজারায় দুর্নীতি নায়েব গগন ও ঝাড়ুদার জিতেনের সিন্ডিকেটে জিম্মি বুড়িগোয়ালিনী বেতাগীর কাজীরহাট বাজার দখল, নোংরা পরিবেশ ও অব্যবস্থাপনায় বদলাচ্ছে না বাজারের চিত্র   সাতক্ষীরায় প্রকাশ্যে ক্ষতিকারক ‘ডেনড্রাইট’ আঠা সেবন ঝুঁকিতে কিশোর ও যুবসমাজ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা তালার উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা, এক বছরের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা চালুর ঘোষণা হাবিবের শ্যামনগরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু পুলিশি শৃঙ্কলা ও নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ বকশী হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি সাতক্ষীরায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় বৃক্ষমেলা ও বৃক্ষরোপণ অভিযানের সমাপ্তি

কয়রা থানায় জিডি মূলে উদ্ধার করা ফোন ‘বিক্রি’ করছেন এএসআই জাহিদ!

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৫৮ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক,

উপকূলীয় জনপদ খুলনার কয়রা উপজেলার সাধারণ মানুষের সারল্যের সুযোগ নিয়ে উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন পুনরায় মালিকের কাছেই টাকার বিনিময়ে ‘বিক্রি’ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এএসআই আবু জাহিদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, উদ্ধার হওয়া ফোন প্রকৃত মালিককে না দিয়ে অন্যত্র বিক্রি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতার মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কয়রা থানার খিরোল গ্রামের বাসিন্দা নাজমা খাতুন (স্বামী: ওহিদুজ্জামান) তার হারিয়ে যাওয়া স্মার্টফোনটি উদ্ধারের জন্য থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর এএসআই আবু জাহিদ ফোনটি উদ্ধার করলেও সেটি নাজমা খাতুনকে বিনামূল্যে ফেরত দেননি।
ভুক্তভোগী নাজমা খাতুন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন
“আমি খুব গরিব মানুষ। আমার শখের ফোনটা হারিয়ে যাওয়ার পর থানায় জিডি করেছিলাম। জাহিদ স্যার ফোন উদ্ধার করে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি অনেক কষ্ট করে টাকাটা জোগাড় করে দিয়েছি। টাকা না দিলে তিনি আমার ফোন ফেরত দিচ্ছিলেন না।”

তদন্তে জানা গেছে, গত ১৫-১৬ মাস ধরে কয়রা থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় এএসআই আবু জাহিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়েছে। নিয়ম অনুযায়ী জিডি মূলে উদ্ধার হওয়া মালামাল প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও, তিনি অনেক ক্ষেত্রে তা গোপন রেখে অন্য ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। দীর্ঘদিন একই এলাকায় থাকার সুবাদে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল এবং মাদক কারবারিদের সাথে তার গভীর সখ্যতা গড়ে উঠেছে বলেও জানা যায়।

এসব অভিযোগের বিষয়ে এএসআই আবু জাহিদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি অনেকটা দায়সারা উত্তর দেন। নাজমা খাতুনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “বিষয়টি আমার ঠিক মনে পড়ছে না।” তবে একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

কয়রা উপজেলার সাধারণ মানুষ মূলত কৃষি ও মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল। এই সহজ-সরল মানুষগুলো আইনি সহায়তার জন্য থানায় গিয়ে উল্টো হয়রানির শিকার হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে জনমনে। ক্ষমতার দাপটে বারবার পার পেয়ে যাওয়া এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews