
সাহারা সুলতানা, বিশেষ প্রতিনিধি
খুলনার কয়রা উপজেলায় গভীর রাতে ঘরের সিঁধ কেটে ভেতরে ঢুকে ভবতোষ মৃধা (৩৭) নামের এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হামলায় নিহতের স্ত্রীও গুরুতর জখম হয়েছেন। গতকাল রোববার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার ৩ নম্বর মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের গিলাবাড়ি গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত ভবতোষ মৃধা (খোকা) ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় গিলাবাড়ি বাজারের একজন সুপরিচিত ওষুধ ব্যবসায়ী ছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো রোববার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে নৈশভোজ শেষে পরিবারের সদস্যদের সাথে ঘুমিয়েছিলেন ভবতোষ। গভীর রাতে একদল অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্ত ঘরের সিঁধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকেই তারা ঘুমন্ত ভবতোষের ওপর অতর্কিত ও উপর্যুপরি হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাকে গুরুতর জখম করে মেঝেতে ফেলে রেখে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
পরে স্বজন ও প্রতিবেশীরা ঘরের ভেতর গোঙানির শব্দ শুনে ছুটে আসেন। তারা ভবতোষকে রক্তাক্ত ও সংকটাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত জায়গীরমহল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতেই তার মৃত্যু হয়।
হামলার সময় স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পায়ে গুরুতর জখম হন ভবতোষের স্ত্রী। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
নিহতের স্ত্রী বলেন, “আমরা সবাই গভীর ঘুমে ছিলাম। হঠাৎ ঘরে মানুষের চলাচলের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অন্ধকারেই কয়েকজন আমার স্বামীর ওপর চড়াও হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। আমি চিৎকার করে স্বামীকে জড়িয়ে ধরলে ওরা আমার পায়েও কোপ দেয়। ঘরে মূল্যবান জিনিসপত্র থাকলেও সেদিকে তাদের কোনো নজর ছিল না। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্যই ছিল আমার স্বামীকে খুন করা। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।”
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে আজ সোমবার সকালে কয়রা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। গিলাবাড়ি বাজারের একজন জনপ্রিয় ব্যবসায়ীর এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “প্রাথমিক আলামত ও ঘটনার ধরন দেখে মনে হচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সিঁধ কেটে ঘরে ঢোকা হলেও কোনো মালামাল লুট হয়নি। পূর্বশত্রুতা কিংবা ব্যবসায়িক কোনো বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।”