
সাহারা সুলতানা, বিশেষ প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় কথিত ‘বাপ্পি-ফরিদ গ্যাং’-এর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, প্রকাশ্যে মাদক সেবন এবং মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ এই চক্র এলাকায় প্রকাশ্যে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে এলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এমনকি শ্যামনগর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযুক্তদের নেপথ্যে থেকে সহযোগিতা করার অভিযোগও তুলেছেন এলাকাবাসী।
থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা হলেন- মুন্সিগঞ্জ এলাকার মুনছুর সরদারের গ্যারেজ সংলগ্ন এলাকার আনছার আলী গাজীর ছেলে মো. মাসুদ রানা বাপ্পি (৩০), কামাল হোসেনের ছেলে মো. রাফিদ (২৮), কুদ্দুস আলীর ছেলে মো. আজমল (৩৩), নুর হোসেন (৩৫), মহিবুল্লাহ (৩৫), ফরিদ (৩২) ও হারুন (৩০)। এছাড়াও এই চক্রের সঙ্গে আরও ৩/৪ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারকারী কালিগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়ালা গ্রামের মো. মাহবুব হোসেন (২২) জানান, গত ৮ মে ২০২৬ রাতে তিনি শ্যামনগরের আবাদচন্ডীপুর গ্রামে তার আত্মীয় সাইজুল ইসলামের বাড়িতে দাওয়াতে যান। রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে তার নিজ মালিকানাধীন কালো রঙের ১০০ সিসি হিরো স্প্লেন্ডার মোটরসাইকেল (রেজি. নং- সাতক্ষীরা-হ-১৯-১২২৫) বাড়ির উঠানে রাখা ছিল।
অভিযোগে বলা হয়, ওই সময় অভিযুক্তরা রামদা, চাইনিজ কুড়াল, হাতুড়ি ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাইজুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের উগ্রমূর্তি দেখে সাইজুল ইসলাম প্রাণভয়ে পালিয়ে গেলে তারা উঠানে থাকা মাহবুবের মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
মাহবুব বাধা দিলে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে প্রধান আসামি মাসুদ রানা বাপ্পি তার বুকের ওপর চড়ে বসে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘বাপ্পি-ফরিদ গ্যাং’ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তারা নিজেদের পুলিশের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে এলাকায় দাপট দেখায়।
অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় তারা ‘পুলিশের সঙ্গে কথা বলছে’ – এমন ভান করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং মোটরসাইকেলটি পুলিশ নিয়ে যেতে বলেছে বলে অপপ্রচার চালিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে শ্যামনগর থানার এএসআই জাকির হোসেনের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এএসআই জাকিরের সঙ্গে এই গ্যাংয়ের গভীর সখ্যতা রয়েছে এবং তার প্রত্যক্ষ প্রশ্রয়েই তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
ভুক্তভোগী মাহবুব হোসেন জানান, মোটরসাইকেল ভাড়া চালিয়েই তার সংসার চলত। একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম মোটরসাইকেলটি ছিনতাই হওয়ার পর সেটি উদ্ধারের জন্য তিনি পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো প্রতিকার পাননি। এতে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান।
একাধিক সূত্রে জানা যায়, বাদীর এজাহার পেয়ে শ্যামনগর থানার ওসি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারের নির্দেশ প্রদান করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার এবং ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা হোক।