
ছাবেদুল সরকার, পাবনা জেলা প্রতিনিধি
পাবনার ফরিদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফয়েজ উদ্দিন মৃধাকে ঘিরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা ব্যঙ্গাত্মক ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনাগুলোর সময়ে তিনি সরকারি ছুটিতে ছিলেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী এই পুলিশ কর্মকর্তা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি ফরিদপুর থানার প্রধান ফটকের সামনের একটি গাছ বন বিভাগের নিয়ম মেনে কাটাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূচনা হয়। বিষয়টিকে ঘিরে কুষ্টিয়ার একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে অসত্য অঙ্গভঙ্গিতে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওসির ছবি বিকৃত ও ব্যঙ্গাত্মক ডিজাইন তৈরি করে নানা ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
ওসি ফয়েজ উদ্দিন মৃধা জানান, এসব ঘটনা যখন ঘটে, তখন তিনি ছুটিতে ছিলেন এবং থানার দায়িত্বে অন্য এক কর্মকর্তা নিয়োজিত ছিলেন।
অন্যদিকে, একই সময়ে থানার এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ‘চায়না দুয়ারী’ জাল ব্যবসায়ীদের মারধর ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি উঠে এলে ওই পুলিশ সদস্যকে ফরিদপুর থানা থেকে সরিয়ে ঈশ্বরদী থানায় বদলি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই বদলিতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই পুলিশ সদস্য ঈশ্বরদী এলাকার কতিপয় ফেসবুক পেজ ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে ওসির বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালান। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ফরিদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফয়েজ উদ্দিন মৃধা বলেন,
“ঘটনাগুলোর সময়ে আমি ছুটিতে ছিলাম। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে ওই সময়ের বিস্তারিত জানা যাবে। ছুটি থেকে ফিরে পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠা ওই পুলিশ সদস্যকে ঈশ্বরদী থানায় বদলি করা হয়েছে।”
বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত ফেসবুক পেজগুলোর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল ব্যবহারে মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য ছড়ানো বিভ্রান্তিকর। তারা সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিক তথ্য প্রকাশের দাবি জানান, যাতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত না হয়।
বর্তমানে এ বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।