বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দেবহাটা উপজেলা ছাত্রদলের আয়োজনে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ  কলারোয়ায় ৩৭৬ হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা দূর ও ২৫০০ কৃষক পরিবারের ভাগ্যবদলে খালের কচুরিপানা পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন  শ্যামনগরে নামজারি ও জমি ইজারায় দুর্নীতি নায়েব গগন ও ঝাড়ুদার জিতেনের সিন্ডিকেটে জিম্মি বুড়িগোয়ালিনী বেতাগীর কাজীরহাট বাজার দখল, নোংরা পরিবেশ ও অব্যবস্থাপনায় বদলাচ্ছে না বাজারের চিত্র   সাতক্ষীরায় প্রকাশ্যে ক্ষতিকারক ‘ডেনড্রাইট’ আঠা সেবন ঝুঁকিতে কিশোর ও যুবসমাজ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা তালার উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা, এক বছরের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা চালুর ঘোষণা হাবিবের শ্যামনগরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু পুলিশি শৃঙ্কলা ও নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ বকশী হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি সাতক্ষীরায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় বৃক্ষমেলা ও বৃক্ষরোপণ অভিযানের সমাপ্তি খুলনা মহানগরীর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়ন নিয়ে কেসিসি প্রশাসকের পরামর্শ সভা

আলমডাঙ্গার হাটবোয়ালিয়ায় নকল ভূষি উৎপাদন, ধরা পড়ায়— সাংবাদিকদের উৎকোচে ধামাচাপার চেষ্টা ব্যর্থ

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৭৫ বার পড়া হয়েছে

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধ :
মো:লালটু রহমান
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া বাজারে সুমন ফ্লাওয়ার মিলে নকল পশুখাদ্য ভূষি উৎপাদনের ঘটনা হাতেনাতে ধরা পড়েছে। বুধবার (১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মিলের ভেতরে অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, ভুসির সঙ্গে নিম্নমানের ধুলোবালি, খইল ও অপ্রাসঙ্গিক উপকরণ মিশিয়ে কৃত্রিম ভূষি তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছিল।

স্থানীয় খামারিরা অভিযোগ করেন, এ ধরনের ভেজাল ভুসি পশুর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে গবাদি পশু নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। বড়গাংনির কৃষক এনামুল বলেন, “হাজার হাজার টাকা খরচ করে আমরা গরু-গাভি পালন করি। কিন্তু এই নকল পশুখাদ্যের কারণে হঠাৎ পশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।”

ঘটনার খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে মিলের মালিক নগদ অর্থ দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সাংবাদিকরা উৎকোচের প্রলোভনে না পড়ে প্রকৃত তথ্যই প্রকাশ্যে আনেন। এলাকাবাসী সাংবাদিকদের এই অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “সাংবাদিকরা যদি টাকা নিয়ে চুপ থাকতেন, তাহলে বিষয়টা চাপা পড়ে যেত। তারা সত্য প্রকাশ করেছেন— এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”

মিলের ভেতরে কোনো নামফলক বা সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ ভূষি নতুন বস্তায় ভরে নামিদামি কোম্পানির লোগো ব্যবহার করেও বাজারজাত করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মেহেদী ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাটি জানতেন না, তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা কার্যালয়ের পরিচালক মোঃ মামুনুল হাসান জানান, “পূজার ছুটি শেষে অভিযানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, কেবল ঘটনা প্রকাশ করলেই চলবে না, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ছাড়া এ ধরনের প্রতারণা বন্ধ হবে না।

সুমন ফ্লাওয়ার মিলে নকল ভূষি উৎপাদনের ঘটনা কেবল একটি ব্যবসায়িক প্রতারণা নয়; এটি কৃষক-খামারিদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের বিশ্বাসকেও মারাত্মকভাবে আঘাত করেছে। প্রশাসনের তৎপরতাই এখন একমাত্র ভরসা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews