বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০২:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শ্যামনগরে শ্রমিকলীগ নেতা গ্রেপ্তার পাথরঘাটার লেমুয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অর্ধশতাধিক দোকান পুড়ে ছাই, কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি।  ‎ বাঁশখালীতে আনসার ও ভিডিপির মানবিক সহায়তা: বন্যা দুর্গত ৪০০টি পরিবারে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শ্যামনগরের বংশীপুর বাজারে দুর্ধর্ষ চুরি, নগদ টাকা ও মালামালসহ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে সাংবাদিক মোস্তাফিজুরের আবেগঘন আর্তি, শরিয়াহ মোতাবেক বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার আকুল আবেদন ধামরাইয়ে অবৈধ টায়ার পোড়ানোর কারখানা: বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন ভাঙ্গুড়ায় ৭ শিক্ষকের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, সরকারি কোষাগারে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা ফেরতের সুপারিশ সাতক্ষীরায় ধর্ষিতা শিশুর পাশে বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ ও নগদ অর্থ সহায়তা মাদারীপুরের রাজৈরে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে ইটের টুকরা ছিটকে পড়া নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট তদন্তে নেমেছে পুলিশ তালায় সাবেক পোষ্ট মাষ্টার আব্দুর রহমানের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন

ধামরাইয়ে অবৈধ টায়ার পোড়ানোর কারখানা: বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

নাজমুল হাসান নাজির , স্টাফ রিপোর্টার

 

রাজধানীর উপকণ্ঠ ধামরাইয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো প্রকার ছাড়পত্র ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে চলছে টায়ার পুড়িয়ে ফার্নেস অয়েল তৈরির অবৈধ কারখানা। এই কারখানার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও সীসা মিশ্রিত বর্জ্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে ফসলি জমি ও জলাশয়, সেই সাথে বাড়ছে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি।

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব

অনুসন্ধানে জানা যায়, কারখানায় টায়ার পুড়িয়ে তেল উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া ও কটু গন্ধে পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি মিশছে স্থানীয় পুকুর ও খাল-বিলে, যার ফলে মাছ ও জলজ প্রাণীর মৃত্যু হচ্ছে। এছাড়া ফসলি জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ বিভিন্ন জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয় নারী ও শিশুরা।

মালিক ও কর্তৃপক্ষের রহস্যময় নীরবতা

এই অবৈধ কারখানার কার্যক্রম সম্পর্কে কারখানা মালিক জিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। কারখানার লাইসেন্স বা পরিবেশগত ছাড়পত্র আছে কি না, সে বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

একইভাবে, ঢাকা জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ ইলিয়াস মাহমুদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাওয়ায় এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ বা মনিটরিং সম্পর্কে কোনো মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

প্রশাসনের বক্তব্য

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, কারখানাটির বিষয়ে প্রশাসন অবগত। তিনি বলেন, “এর আগেও একাধিকবার অভিযান চালিয়ে কারখানাটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। এরপরও যদি গোপনে কারখানাটি পুনরায় চালু করা হয়, তবে অচিরেই আমরা কঠোর অভিযান পরিচালনা করব এবং মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

জনগণের দাবি

স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার জরিমানা করার পরও কারখানাটি বন্ধ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। তারা অবিলম্বে এই অবৈধ কারখানাটি স্থায়ীভাবে সিলগালা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পরিবেশবাদী সচেতন মহলের মতে, সরকারি আদেশ অমান্য করে যারা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের মাধ্যমে আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews