1. live@dailysatkhirdiganta.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.dailysatkhirdiganta.com : দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত :
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন

নিখোঁজের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শ্যামনগর থানা পুলিশের অনন্য সাফল্য যশোর সীমান্ত থেকে ১১ বছরের শিশু উদ্ধার

মোঃ মেহেদী হাসান, সম্পাদক ও প্রকাশক
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মেহেদী হাসান, সম্পাদক ও প্রকাশক

সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানা পুলিশের এক চৌকস ও সাঁড়াশি অভিযানে নিখোঁজ হওয়ার মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ১১ বছর বয়সী এক শিশু। যশোর জেলার শার্শা থানার নাভারন সীমান্ত এলাকা থেকে নিখোঁজ ওই শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া নাজমিন নাহারিন ইলা (১১) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের জয়াখালি গ্রামের নাজমুল হোসেনের কন্যা এবং স্থানীয় সাংবাদিক মনিরের ভাগ্নী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন ২০২৬ তারিখে জয়াখালি গ্রাম থেকে শিশু নাজমিন নাহারিন ইলা নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে শ্যামনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়, যার নং-৫৫০ (জিডি ট্র্যাকিং নং-SKYIUX)।

 

জিডি নথিভুক্ত হওয়ার পর পরই শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ খালেদুর রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ও নেতৃত্বে তদন্তে নামেন মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) মো: সজিব ও এএসআই (নিরস্ত্র) মো: মঞ্জুরুল ইসলাম। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, শিশুটিকে যশোর সীমান্ত এলাকা দিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পরবর্তীতে শ্যামনগর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল শার্শা থানা পুলিশের সহযোগিতায় যশোর নাভারন বর্ডার এলাকায় এক যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের এই চৌকস দলটির অক্লান্ত পরিশ্রমে সীমান্ত এলাকা থেকে শিশু ইলাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মূল অভিযুক্ত শহর আলী (৫৫), তার কন্যা এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যরা কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পলাতকদের গ্রেপ্তারে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

এই ঝটিকা ও সফল অভিযানে সম্মুখভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন শ্যামনগর থানার একঝাঁক চৌকস পুলিশ সদস্য। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন

এসআই (নিরস্ত্র) মো: সজিব (মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা)

এএসআই (নিরস্ত্র) মো: মঞ্জুরুল ইসলাম

কনস্টেবল মো: আব্দুর রহমান

নারী কনস্টেবল সানজিদা

নিখোঁজের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। তবে মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সীমান্ত এলাকা থেকে শিশুকে উদ্ধার করায় সুধীমহল ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। উদ্ধারকৃত শিশুকে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে তার মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত পরিবার পুলিশ প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

 

শ্যামনগর থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে মোঃ খালেদুর রহমান যোগদান করার পর থেকেই উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ঘটেছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ এখন যেকোনো সমস্যা নিয়ে সরাসরি ও নির্বিঘ্নে ওসির সাথে কথা বলতে পারেন। তার এই জনবান্ধব ও মানবিক পুলিশিং কার্যক্রমের কারণে তিনি ইতিমধ্যেই এলাকায় একজন ‘মানবিক পুলিশ অফিসার’ হিসেবে সর্বস্তরের মানুষের মন জয় করেছেন। এই সফল উদ্ধার অভিযানের পর তার কার্যদক্ষতার প্রশংসা এখন চারদিকে।

একই সাথে এএসআই মঞ্জুরুল ইসলাম থানায় যোগদানের পর থেকে সাধারণ মানুষ ও ছোট-বড় সবার সাথে মিশে গিয়ে যেভাবে আইনি সেবা দিচ্ছেন, তা-ও স্থানীয় মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ খালেদুর রহমান জানান, “জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও আইনি সেবা নিশ্চিত করাই পুলিশের মূল লক্ষ্য। শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করা আমাদের দায়িত্ব ছিল। অপরাধী চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

 

 

 

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত