1. live@dailysatkhirdiganta.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.dailysatkhirdiganta.com : দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত :
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৬:০৫ অপরাহ্ন

সাতক্ষীরা রেঞ্জে মৌয়ালদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মধু আদায়ের অভিযোগ, বন বিভাগের অস্বীকার

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

আবুজার গাজী, খুলনা বিভাগীয় প্রধান।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বন নির্ভর জনপদে মধু আহরণ মৌয়ালদের অন্যতম প্রধান জীবিকা। বিশেষ করে সুন্দরবন এলাকায় মৌসুম এলেই শত শত মৌয়াল বন থেকে প্রাকৃতিক মধু সংগ্রহে বন বিভাগের অনুমতির জন্য ছুটে বেড়ান। তবে চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা রেঞ্জের কয়েকটি স্টেশন ঘিরে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মৌয়ালদের দাবি, সরকারি রেভিনিউ দেওয়ার পরও অতিরিক্ত “ঘুষের মধু” না দিলে মিলছে না মধু আহরণের পাস।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সাতক্ষীরা রেঞ্জের কোবাদক, বুড়িগোয়ালিনী, কদমতলা ও কৈখালী স্টেশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা বন বিভাগের চিহ্নিত দালালদের মাধ্যমে মৌয়ালদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সুবিধা আদায় করছে। অভিযোগ রয়েছে, কোবাদক স্টেশনের মাসুম ঢালী, বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের ইসমাইল সানা, জালাল মোল্লা ও শহিদুল মোল্লা, কদমতলা স্টেশনের আকবর আলী ও আমজাদ হোসেন এবং কৈখালী স্টেশনের শহীদুল ইসলাম ও বুলবুল হোসেন নামে পরিচিত ব্যক্তিরা মৌয়ালদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০০ গ্রাম করে মধু সংগ্রহ করছেন।

মৌয়ালদের অভিযোগ, সরকারি ফি পরিশোধ করেও অনেক সময় আবেদন আটকে রাখা হয়। পরে দালালদের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে দ্রুত অনুমতি মিলছে। এই অতিরিক্ত মধু বন বিভাগের বিভিন্ন স্তরে পৌঁছে যায় বলেও গোপন সূত্রে জানা গেছে।

শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, গাবুরা ও বুড়িগোয়ালিনী এলাকার কয়েকজন মৌয়াল নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি নিয়মে আবেদন করলেও নানা অজুহাতে পাস বিলম্ব করা হয়। পরে নির্দিষ্ট পরিমাণ মধু দিলে দ্রুত অনুমতি মেলে।

মুন্সিগঞ্জের চুনকুড়ি এলাকার কয়েকজন মৌয়াল জানান, কদমতলা স্টেশন থেকে হরিনগর এলাকার আকবর নামের এক দালালের মাধ্যমে জনপ্রতি ১৩০০ টাকা সরকারি রেভিনিউ জমা দেওয়ার পরও তাদের পাস আটকে রাখা হয়। পরে জনপ্রতি ৫০০ গ্রাম মধু দিতে বাধ্য করা হয়।

এক মৌয়াল বলেন,

“আকবর দালাল আমাদের বলেছে, জনপ্রতি ৫০০ গ্রাম মধু না দিলে বন বিভাগ পাস দেবে না। এমনকি বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর জন্যও মধু পাঠাতে হবে বলে আমাদের কাছ থেকে মধু নেওয়া হয়েছে। প্রতি বছরই এভাবে মধু দিতে হয়।”

সাতক্ষীরা রেঞ্জ বন বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে পহেলা এপ্রিল থেকে ১ হাজার ১শ’ কুইন্টাল মধু ও ৬শ’ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৫৫টি পাসের মাধ্যমে ১ হাজার ৪৭ জন মৌয়াল সুন্দরবনে প্রবেশ করেছেন। এখন পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে ৫২৩ কুইন্টাল মধু ও ১৫৭ কুইন্টাল মোম।

অভিযোগের বিষয়ে কদমতলা স্টেশনের কথিত দালাল আকবর আলী অতিরিক্ত মধু নেওয়ার বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন,

“জনপ্রতি ৫০০ গ্রাম মধু দাবি করা হলেও অনেকে ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম করে দিচ্ছে। এসব মধু সংগ্রহ করে স্টেশন অফিসে দেই। পরে স্যারেরা কি করেন সেটা আমি জানি না।”

পরিবেশ ও বন ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ পীযূষ বাউলিয়া পিন্টু বলেন,

“অনুমতি প্রক্রিয়া পুরোপুরি ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করা গেলে এ ধরনের অনিয়ম অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে দালালমুক্তভাবে সরাসরি বন বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মশিউর রহমান। তিনি বলেন,

“সরকারি রেভিনিউ ছাড়া অতিরিক্ত মধু নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বন বিভাগের কেউ দালালদের মাধ্যমে মৌয়ালদের কাছ থেকে মধু নিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দালালদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি মৌয়ালদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হলে বন বিভাগের অনুমতি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি। অন্যথায় জীবিকার তাগিদে বন নির্ভর সাধারণ মানুষের ওপর এই অনিয়মের বোঝা আরও বাড়বে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত