রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মাদকের বিরুদ্ধে যখন উত্তাল সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ, তখনই ভাইরাল স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার কথিত ইয়াবা সেবনের ভিডিও! জনমনে তীব্র ক্ষোভ শ্যামনগরে মা’য়ের দাঁত ভাঙলো ছেলে শ্যামনগরে যৌতুকলোভী আজিজুল হক আকাশ গ্রেফতার ডুমুরিয়ার খর্ণিয়া ইউপি নির্বাচন: দলীয় প্রতীক না থাকায় বাড়ছে প্রার্থীর ভিড়, মাঠে নামছেন এক ডজন সম্ভাব্য প্রার্থী ফরিদপুরে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সাথে বিএমডিএ চেয়ারম্যানের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত টেকনাফে ইউএনওর উপস্থিতিতে এনজিও কার্যক্রম ও সীমান্ত উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময়, ঝিমংখালী বিজিবি ক্যাম্প পরিদর্শন ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক রোহিঙ্গা আসামি আইয়ুব আলী র‍্যাব-১৫-এর হাতে গ্রেপ্তার উন্নয়নের সুবিধা থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না”, অভয়নগরে এডিবি’র উন্নয়ন বরাদ্দ বিতরণ অনুষ্ঠানে এমপি গোলাম রসুল চুকনগরে মাদক, অনলাইন জুয়া ও দুর্নীতি নির্মূলের দাবিতে মানববন্ধন ফরিদপুরে আলী আছগার এমপির অর্থায়নে কৃষকদের মাঝে স্প্রে মেশিন ও শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

সাতক্ষীরায় অনলাইন জুয়া ও ইয়াবার মরণফাঁদ প্রশাসনের ‘নীরবতায়’ বিপন্ন জনপদ

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৮৫ বার পড়া হয়েছে

এস এম নাসির উদ্দিন, নিজস্ব প্রতিনিধি

 

 

সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে বর্তমানে এক ভয়াবহ আতঙ্কের নাম অনলাইন জুয়া ও মরণনেশা ইয়াবা। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতার অভাবকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী অপরাধী সিন্ডিকেট। শহর থেকে প্রত্যন্ত উপকূলীয় গ্রাম-সর্বত্রই এখন এই বিষাক্ত থাবা বিস্তৃত, যা ঠেলে দিচ্ছে জনপদকে চরম সামাজিক অস্থিরতার দিকে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় দুই দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা ও পদ্মপুকুর এখন অনলাইন জুয়ার প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র এই দুই ইউনিয়নেই ৫০০-এর বেশি সক্রিয় এজেন্ট রয়েছে। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের আড়ালে ঘরে বসেই প্রতিদিন লেনদেন হচ্ছে কয়েক কোটি টাকা। “সহজে বড়লোক হওয়ার” নেশায় মেতেছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণ ও যুবসমাজ। ডিজিটাল এই জুয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়ছে শত শত পরিবার।

অনলাইন জুয়ার সমান্তরালে জেলাজুড়ে মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে ইয়াবা। এক সময় অত্যন্ত গোপনে কেনাবেচা হলেও এখন সাতক্ষীরার বিভিন্ন মোড় ও পাড়া-মহল্লায় এটি অনেকটা ‘চা-বিস্কুটের মতো সহজলভ্য’ হয়ে পড়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষ এই মরণনেশায় আসক্ত হয়ে পড়ায় ভেঙে পড়ছে চিরাচরিত পারিবারিক কাঠামো।

সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, জুয়া ও মাদক একে অপরের পরিপূরক। জুয়ায় টাকা হেরে সেই অর্থের জোগান দিতে তরুণরা ঝুঁকছে চুরি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার দিকে। ফলে জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়ছে এবং পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পারিবারিক সহিংসতা। অভিভাবকরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।

সর্বসাধারণের অভিযোগ, এই অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রকাশ্য দিবালোকে চললেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসনের এক ধরনের ‘নীরবতায়’ অপরাধী চক্রগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সীমান্ত জেলা হওয়ায় মাদক প্রবেশের রুটগুলো বন্ধে বিজিবি ও পুলিশের সমন্বিত অভিযানের দাবি উঠেছে জোরালোভাবে।

সাতক্ষীরার সচেতন নাগরিক সমাজ ও বিশিষ্টজনেরা এই পরিস্থিতি উত্তরণে অনতিবিলম্বে কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়িয়ে ইয়াবার রুটগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা; অনলাইন জুয়ার এজেন্ট ও মাস্টারমাইন্ডদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা; চিহ্নিত মাদক স্পটগুলোতে নিয়মিত চিরুনি অভিযান পরিচালনা এবং ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচারণার মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সময় থাকতে এই ‘ডিজিটাল ভাইরাস’ ও ‘মরণনেশা’র লাগাম টেনে না ধরলে সাতক্ষীরার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক অন্ধকার গহ্বরে হারিয়ে যাবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews