বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
খুলনার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পেলেন সরকার ওমর ফারুক দেবহাটা উপজেলা ছাত্রদলের আয়োজনে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ  কলারোয়ায় ৩৭৬ হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা দূর ও ২৫০০ কৃষক পরিবারের ভাগ্যবদলে খালের কচুরিপানা পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন  শ্যামনগরে নামজারি ও জমি ইজারায় দুর্নীতি নায়েব গগন ও ঝাড়ুদার জিতেনের সিন্ডিকেটে জিম্মি বুড়িগোয়ালিনী বেতাগীর কাজীরহাট বাজার দখল, নোংরা পরিবেশ ও অব্যবস্থাপনায় বদলাচ্ছে না বাজারের চিত্র   সাতক্ষীরায় প্রকাশ্যে ক্ষতিকারক ‘ডেনড্রাইট’ আঠা সেবন ঝুঁকিতে কিশোর ও যুবসমাজ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা তালার উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা, এক বছরের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা চালুর ঘোষণা হাবিবের শ্যামনগরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু পুলিশি শৃঙ্কলা ও নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ বকশী হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি সাতক্ষীরায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় বৃক্ষমেলা ও বৃক্ষরোপণ অভিযানের সমাপ্তি

সাতক্ষীরায় অনলাইন জুয়া ও ইয়াবার মরণফাঁদ প্রশাসনের ‘নীরবতায়’ বিপন্ন জনপদ

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৪০ বার পড়া হয়েছে

এস এম নাসির উদ্দিন, নিজস্ব প্রতিনিধি

 

 

সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে বর্তমানে এক ভয়াবহ আতঙ্কের নাম অনলাইন জুয়া ও মরণনেশা ইয়াবা। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতার অভাবকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী অপরাধী সিন্ডিকেট। শহর থেকে প্রত্যন্ত উপকূলীয় গ্রাম-সর্বত্রই এখন এই বিষাক্ত থাবা বিস্তৃত, যা ঠেলে দিচ্ছে জনপদকে চরম সামাজিক অস্থিরতার দিকে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় দুই দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা ও পদ্মপুকুর এখন অনলাইন জুয়ার প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র এই দুই ইউনিয়নেই ৫০০-এর বেশি সক্রিয় এজেন্ট রয়েছে। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের আড়ালে ঘরে বসেই প্রতিদিন লেনদেন হচ্ছে কয়েক কোটি টাকা। “সহজে বড়লোক হওয়ার” নেশায় মেতেছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণ ও যুবসমাজ। ডিজিটাল এই জুয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়ছে শত শত পরিবার।

অনলাইন জুয়ার সমান্তরালে জেলাজুড়ে মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে ইয়াবা। এক সময় অত্যন্ত গোপনে কেনাবেচা হলেও এখন সাতক্ষীরার বিভিন্ন মোড় ও পাড়া-মহল্লায় এটি অনেকটা ‘চা-বিস্কুটের মতো সহজলভ্য’ হয়ে পড়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষ এই মরণনেশায় আসক্ত হয়ে পড়ায় ভেঙে পড়ছে চিরাচরিত পারিবারিক কাঠামো।

সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, জুয়া ও মাদক একে অপরের পরিপূরক। জুয়ায় টাকা হেরে সেই অর্থের জোগান দিতে তরুণরা ঝুঁকছে চুরি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার দিকে। ফলে জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়ছে এবং পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পারিবারিক সহিংসতা। অভিভাবকরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।

সর্বসাধারণের অভিযোগ, এই অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রকাশ্য দিবালোকে চললেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসনের এক ধরনের ‘নীরবতায়’ অপরাধী চক্রগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সীমান্ত জেলা হওয়ায় মাদক প্রবেশের রুটগুলো বন্ধে বিজিবি ও পুলিশের সমন্বিত অভিযানের দাবি উঠেছে জোরালোভাবে।

সাতক্ষীরার সচেতন নাগরিক সমাজ ও বিশিষ্টজনেরা এই পরিস্থিতি উত্তরণে অনতিবিলম্বে কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়িয়ে ইয়াবার রুটগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা; অনলাইন জুয়ার এজেন্ট ও মাস্টারমাইন্ডদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা; চিহ্নিত মাদক স্পটগুলোতে নিয়মিত চিরুনি অভিযান পরিচালনা এবং ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচারণার মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সময় থাকতে এই ‘ডিজিটাল ভাইরাস’ ও ‘মরণনেশা’র লাগাম টেনে না ধরলে সাতক্ষীরার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক অন্ধকার গহ্বরে হারিয়ে যাবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews