
আবুজার গাজী, স্টাফ রিপোর্টার
ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ও সংলগ্ন সীমান্ত এলাকাকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক চোরাচালানের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা কৈখালী ও মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই চক্রের বড় একটি চালানের সন্ধান মিলেছে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব-৬) বিশেষ অভিযানে সীমান্ত ও বনের গহিন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ—১৭ বস্তা—ফেনসিডিল। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আলামিন (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে কৌশলে সটকে পড়েছেন খোকন গাজী (৩৮) নামে অপর এক চোরাকারবারি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত সীমান্তঘেঁষা কৈখালী ও মুন্সিগঞ্জ পয়েন্ট দিয়ে অবৈধ পণ্য প্রবেশের খবর দীর্ঘদিন ধরেই পাওয়া যাচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১১ আগস্ট থেকে কৈখালী সীমান্ত সংলগ্ন উপকূলীয় জলপথ ও সুন্দরবনের বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে নজরদারি বাড়ায় র্যাব-৬। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ট্যেরাখালি ফরেস্ট অফিসের বিপরীত পাশে সুন্দরবনের ভেতরে অভিযান চালিয়ে লুকিয়ে রাখা ১৭টি বস্তা থেকে এ ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।
দক্ষিণ-পশ্চিমের এ সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে সুন্দরবনের দুর্গম পথ ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাদক পৌঁছে দেওয়ার এই কৌশলকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
সীমান্তবর্তী কৈখালী ও পার্শ্ববর্তী টহল পয়েন্টগুলোর নজরদারি এড়িয়ে কীভাবে সুন্দরবনের গহিনে এত বড় চালান প্রবেশ করল—এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বনের গহিন অঞ্চল ও সীমান্ত সংলগ্ন জলপথে নিয়মিত বিজিবির টহল ও বন বিভাগের বিট স্টেশন থাকা সত্ত্বেও চোরাচালানিদের এমন তৎপরতা ইঙ্গিত দেয় অভ্যন্তরীণ জবাবদিহির অভাবকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সীমান্তবাসী জানান, স্থানীয় অসাধু চক্র ও দায়িত্বশীলদের একশ্রেণীর অসাধু সদস্যের পরোক্ষ মদদ ছাড়া বনের অভ্যন্তরে মাদকের বড় মজুদ তৈরি করা অসম্ভব। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কৈখালী সীমান্ত ও সুন্দরবন এলাকাকে ঘিরে ১৭ বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধারের খবর চাউর হওয়ার পর পুরো শ্যামনগর উপজেলায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ সফলতায় সাধারণ মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করলেও মূল সিন্ডিকেট উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর মতে, গ্রেফতার হওয়া যুবক ও পলাতক ব্যক্তি মূলত বাহক হিসেবে কাজ করছিল। এই মাদকের মূল অর্থদাতা, চোরাচালানের মাস্টারমাইন্ড এবং নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের অনতিবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে র্যাবের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।