1. live@dailysatkhirdiganta.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.dailysatkhirdiganta.com : দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত :
বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ন

৩ বছর ধরে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আনয়ারা বেগম অনুপস্থিত

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

সিলেট প্রতিনিধি

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার গাবুরটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বহিঃবাংলাদেশ ছুটির আদেশ জালিয়াতি করে কর্মস্থলে দীর্ঘ তিন বছর ধরে অনুপস্থিত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে । সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন ও জালিয়াতির আশ্রয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করে তাঁর দীর্ঘ মেয়াদে বিদেশে অবস্থানের বিষয়টি বর্তমানে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নিবিড় তদন্তাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

অনুসন্ধান ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নামে একটি বহিঃবাংলাদেশ ছুটির আদেশ প্রদর্শন করে দেশ ত্যাগ করেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। তবে পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পরও তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেননি। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর এই রহস্যজনক অনুপস্থিতির পর ওই ছুটির আদেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং এটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও জালিয়াতি চক্রের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগের সত্যতা মিলতে শুরু করে। এরপরই বিষয়টি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের নজরে আসে এবং তদন্তের আওতায় আনা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ওই শিক্ষিকা জালিয়াতির মাধ্যমে ছুটির আদেশ তৈরি করে বর্তমানে প্রবাসে অবস্থান করছেন। একজন সরকারি শিক্ষকের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ এবং দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ের এক সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,

“উক্ত শিক্ষিকার ছুটির আদেশের সত্যতা যাচাই ও দীর্ঘ অনুপস্থিতির বিষয়ে জেলা ও বিভাগীয় তদন্ত দল ইতিমধ্যে সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।”

প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা আরও জানান,

“অভিযুক্ত শিক্ষিকার সব ধরনের বেতন-ভাতা ও রাষ্ট্রীয় আর্থিক সুবিধা ইতিমধ্যে স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্তের এখতিয়ার উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয়ের নেই। এটি সম্পূর্ণ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন। আমরা প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও সরেজমিন প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করেছি। তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তিসাপেক্ষে বিধি অনুযায়ী চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে, স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের এমন জালিয়াতি এবং দীর্ঘ তিন বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরও চূড়ান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা আমলাতান্ত্রিক জটিলতারই বহিঃপ্রকাশ, যা গ্রামীণ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পরিবেশকে বিনষ্ট করছে। তাঁরা দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দোষী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষিকার ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি প্রবাসে অবস্থান করায় তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, তদন্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে আলোর মুখ দেখলেই এই জালিয়াতি চক্রের নেপথ্যের কুশীলব এবং ঘটনার প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি স্পষ্ট হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত