1. live@dailysatkhirdiganta.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.dailysatkhirdiganta.com : দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত :
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ন

সুন্দরবনে প্রবেশে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা সংকটে উপকূলের ৫০ হাজার বনজীবী

আবুজার গাজী, খুলনা বিভাগীয় প্রধান।
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

আবুজার গাজী, খুলনা বিভাগীয় প্রধান

 

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বন্যপ্রাণীর নিরাপদ প্রজনন এবং মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামীকাল ১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে তিন মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা ৯০ দিন বনের অভ্যন্তরে পর্যটন, মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, মধু সংগ্রহসহ সব ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

তবে পরিবেশ সুরক্ষায় এই আইনি উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও বিকল্প কর্মসংস্থান ও অপর্যাপ্ত সরকারি সহায়তার কারণে চরম মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন সাতক্ষীরা উপকূলের হাজার হাজার বনজীবী। বিশেষ করে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, হরিনগর, গাবুরা, ভেটখালি ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

স্থানীয় মৎস্য বিভাগ ও বনজীবী সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় প্রকৃত বনজীবীর সংখ্যা সরকারি তালিকার চেয়ে অনেক বেশি। শ্যামনগর উপজেলায় সরকারিভাবে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২৩ হাজার ৯২৮ জন হলেও, এই তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন বিশেষ ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা (দুই ধাপে মোট ৭৭ কেজি চাল) পাবেন মাত্র ৮ হাজার ৩২৪ জন। অর্থাৎ, নিবন্ধিত কার্ডধারী জেলেদের মধ্যেই প্রায় ১৫ হাজার ৬০৪ জন কোনো রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাবেন না। এর বাইরে অনিবন্ধিত জেলে, ট্রলার শ্রমিক ও বাওয়ালিরা সম্পূর্ণ তালিকার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।

গাবুরা এলাকার জেলে জিন্নাহ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

“১ জুন থেকে পাস (অনুমতিপত্র) বন্ধ। অথচ আমাদের এলাকার অর্ধেকের বেশি মানুষের চালের কার্ড নেই। যাদের বোট লাইসেন্স (বিএলসি) আছে বা রাজনৈতিক প্রভাব আছে, তারা চাল পায়। আর আমরা যারা নদীতে খাটি, আমাদের ঘরে চাল পৌঁছায় না। এই তিন মাস আমরা কী খেয়ে বাঁচব?”

 

নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার আগেই উপকূলের নদী তীরগুলোতে সারি সারি নৌকা বেঁধে রাখতে দেখা গেছে। স্থানীয় জেলেরা জানান, অফ-সিজনে এলাকায় কৃষি বা অন্য কোনো বিকল্প কাজের সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে তাদের চড়া সুদে মহাজন ও দাদনদারদের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়। এই ৯০ দিনের ঋণের বোঝা টানতে গিয়ে অনেক পরিবার বছরের বাকি সময় ঋণের জালে আটকে থাকে।

এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পরিবেশকর্মী জানান, সাধারণ জেলেদের প্রবেশাধিকার বন্ধ থাকার এই সুযোগে বনের ভেতরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে। স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে বিষ দিয়ে মাছ শিকার এবং হরিণ নিধনে মেতে ওঠে, যা কঠোর নজরদারির মাধ্যমে বন্ধ করা জরুরি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) জানান, “নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন বনের সুরক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘স্মার্ট পেট্রোলিং’ এবং কঠোর টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপকূলীয় অধিকার রক্ষা আন্দোলনের কর্মী মোহন কুমার মণ্ডল বলেন,

“প্রকৃতির পুনরুজ্জীবন ও সুন্দরবন রক্ষায় এই নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত সময়োপযোগী। কিন্তু বন পাহারা দেওয়ার মূল কারিগর যে বনজীবীরা, তাদের ক্ষুধার্ত রেখে টেকসই বন সংরক্ষণ সম্ভব নয়। জেলে কার্ডের স্বজনপ্রীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের শতভাগ সহায়তার আওতায় আনা এবং তাদের জন্য টেকসই বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।”

 

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত