বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাজৈরে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা খুলনা মহানগরীতে জলবায়ু স্থানচ্যুতি ব্যবস্থাপনা কৌশলপত্র হস্তান্তর আন্তর্জাতিক যুব দিবসে তালায় জামায়াতের যুব বিভাগের সাইকেল র‍্যালি খুলনার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পেলেন সরকার ওমর ফারুক দেবহাটা উপজেলা ছাত্রদলের আয়োজনে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ  কলারোয়ায় ৩৭৬ হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা দূর ও ২৫০০ কৃষক পরিবারের ভাগ্যবদলে খালের কচুরিপানা পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন  শ্যামনগরে নামজারি ও জমি ইজারায় দুর্নীতি নায়েব গগন ও ঝাড়ুদার জিতেনের সিন্ডিকেটে জিম্মি বুড়িগোয়ালিনী বেতাগীর কাজীরহাট বাজার দখল, নোংরা পরিবেশ ও অব্যবস্থাপনায় বদলাচ্ছে না বাজারের চিত্র   সাতক্ষীরায় প্রকাশ্যে ক্ষতিকারক ‘ডেনড্রাইট’ আঠা সেবন ঝুঁকিতে কিশোর ও যুবসমাজ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা তালার উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা, এক বছরের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা চালুর ঘোষণা হাবিবের

সিন্ডিকেট ভেঙে শ্যামনগরে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর অভিযান

  • প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
  • ২২২ বার পড়া হয়েছে

আবুজার গাজী, খুলনা বিভাগীয় প্রধান।

 

সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলায় দীর্ঘদিনের তেল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও কৃত্রিম সংকট মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রত্যক্ষ তদারকি ও সাঁড়াশি অভিযানে ভেঙে পড়েছে অসাধু ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এতে দীর্ঘ ভোগান্তি শেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাধারণ মানুষ।

 

জানা গেছে, শ্যামনগরের কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে তেল মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছিল। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ‘দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত’-এর প্রতিনিধি আবুজার গাজী এবং শ্যামনগর থানার এসআই মোরসালিন একটি পাম্পে অকটেন নিতে গেলে কর্মচারীরা ‘মেশিন নষ্ট’ হওয়ার অজুহাতে তেল দিতে অস্বীকার করে। পাম্পটি সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকটের চেষ্টা চালানো হচ্ছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পরপরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। ইউএনও’র নির্দেশে উপজেলার চারটি প্রধান তেলের পাম্পে নিয়মিত তদারকি ও নজরদারি শুরু হয়। কোনো পাম্পে তেলের সঠিক পরিমাপ দেওয়া হচ্ছে কি না এবং সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমেও তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে।

 

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ খালেদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, জনস্বার্থে পুলিশ প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন,

“শ্যামনগর একটি বৃহত্তম উপজেলা। আমি এবং আমার বাহিনীর সকল সদস্য নিষ্ঠার সাথে মানুষের সেবায় নিয়োজিত আছি। জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টিকারী কোনো সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। আমরা সর্বদা সাধারণ মানুষের পাশে থাকব।”

 

প্রশাসনের এই আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপে নড়েচড়ে বসেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে এবং দীর্ঘ লাইন ছাড়াই সাধারণ মানুষ জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন। স্থানীয় এক ভুক্তভোগী জানান, “প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি না থাকলে এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব হতো না। এখন আমরা হয়রানি ছাড়াই তেল পাচ্ছি।”

সচেতন মহল মনে করছেন, এই তদারকি শুধু সাময়িক নয়, বরং নিয়মিত করা হলে ভবিষ্যতে আর কোনো অসাধু চক্র তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরির সাহস পাবে না।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews