আবুজার গাজী, খুলনা বিভাগীয় প্রধান।
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলায় দীর্ঘদিনের তেল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও কৃত্রিম সংকট মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রত্যক্ষ তদারকি ও সাঁড়াশি অভিযানে ভেঙে পড়েছে অসাধু ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এতে দীর্ঘ ভোগান্তি শেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, শ্যামনগরের কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে তেল মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছিল। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ‘দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত’-এর প্রতিনিধি আবুজার গাজী এবং শ্যামনগর থানার এসআই মোরসালিন একটি পাম্পে অকটেন নিতে গেলে কর্মচারীরা ‘মেশিন নষ্ট’ হওয়ার অজুহাতে তেল দিতে অস্বীকার করে। পাম্পটি সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকটের চেষ্টা চালানো হচ্ছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পরপরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। ইউএনও’র নির্দেশে উপজেলার চারটি প্রধান তেলের পাম্পে নিয়মিত তদারকি ও নজরদারি শুরু হয়। কোনো পাম্পে তেলের সঠিক পরিমাপ দেওয়া হচ্ছে কি না এবং সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমেও তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ খালেদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, জনস্বার্থে পুলিশ প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন,
"শ্যামনগর একটি বৃহত্তম উপজেলা। আমি এবং আমার বাহিনীর সকল সদস্য নিষ্ঠার সাথে মানুষের সেবায় নিয়োজিত আছি। জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টিকারী কোনো সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। আমরা সর্বদা সাধারণ মানুষের পাশে থাকব।"
প্রশাসনের এই আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপে নড়েচড়ে বসেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে এবং দীর্ঘ লাইন ছাড়াই সাধারণ মানুষ জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন। স্থানীয় এক ভুক্তভোগী জানান, "প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি না থাকলে এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব হতো না। এখন আমরা হয়রানি ছাড়াই তেল পাচ্ছি।"
সচেতন মহল মনে করছেন, এই তদারকি শুধু সাময়িক নয়, বরং নিয়মিত করা হলে ভবিষ্যতে আর কোনো অসাধু চক্র তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরির সাহস পাবে না।