বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
খুলনার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পেলেন সরকার ওমর ফারুক দেবহাটা উপজেলা ছাত্রদলের আয়োজনে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ  কলারোয়ায় ৩৭৬ হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা দূর ও ২৫০০ কৃষক পরিবারের ভাগ্যবদলে খালের কচুরিপানা পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন  শ্যামনগরে নামজারি ও জমি ইজারায় দুর্নীতি নায়েব গগন ও ঝাড়ুদার জিতেনের সিন্ডিকেটে জিম্মি বুড়িগোয়ালিনী বেতাগীর কাজীরহাট বাজার দখল, নোংরা পরিবেশ ও অব্যবস্থাপনায় বদলাচ্ছে না বাজারের চিত্র   সাতক্ষীরায় প্রকাশ্যে ক্ষতিকারক ‘ডেনড্রাইট’ আঠা সেবন ঝুঁকিতে কিশোর ও যুবসমাজ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা তালার উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা, এক বছরের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা চালুর ঘোষণা হাবিবের শ্যামনগরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু পুলিশি শৃঙ্কলা ও নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ বকশী হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি সাতক্ষীরায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় বৃক্ষমেলা ও বৃক্ষরোপণ অভিযানের সমাপ্তি

শ্যামনগরে সরকারি হাসপাতালের ‘রেফার’ বাণিজ্যে জিম্মি রোগীরা কমিশন ভোগী চিকিৎসকদের যোগসাজশে ক্লিনিক মালিকের পৈশাচিকতা!

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩০৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক,

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সরকারি হাসপাতালের এক শ্রেণির চিকিৎসকদের ‘কমিশন’ বাণিজ্যের বলি হতে হলো এক অসহায় প্রসূতি পরিবারকে। প্রসবোত্তর সেবার জন্য সরকারি হাসপাতালে গিয়েও চিকিৎসা না পেয়ে ক্লিনিক মালিকের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি হাসপাতালের ডাক্তাররা রোগীর গায়ে হাত না দিয়ে কেবল কমিশনের লোভে রোগীদের পাঠিয়ে দিচ্ছেন বিতর্কিত ‘আনিকা ক্লিনিকে’। সেখানে মোটা অংকের টাকা দাবি এবং টাকা না পেয়ে স্বজনদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করার ঘটনায় গোটা উপজেলাজুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে।

 

ভুক্তভোগী আলাউদ্দীন সানা জানান, তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী হাসনাহেনার পথিমধ্যে প্রসব হওয়ার পর তাকে দ্রুত শ্যামনগর সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই মুমূর্ষু রোগীকে ন্যূনতম প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান বা গায়ে হাত দিয়ে পরীক্ষা না করে সরাসরি ‘আনিকা ক্লিনিক’-এ ভর্তির নির্দেশ দেন। অভিযোগ উঠেছে, আনিকা ক্লিনিকের মালিক ডা. আনিছুর রহমানের সাথে সরকারি হাসপাতালের ওই চিকিৎসকদের গোপন আর্থিক লেনদেন ও কমিশনের চুক্তি রয়েছে। আর এই ‘রেফার বাণিজ্যের’ কারণেই সাধারণ রোগীদের জীবন এখন চরম ঝুঁকির মুখে।

 

সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের কথামতো আনিকা ক্লিনিকে ভর্তির পরপরই বেরিয়ে আসে মালিক আনিছুর রহমানের আসল চেহারা। মাত্র নাড়ি কাটার ফি বাবদ তিনি ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন। গরিব পরিবারটি এই অন্যায্য টাকা দিতে অস্বীকার করলে ডাক্তার আনিছুর ও তার সহযোগীরা তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখে। সেখানে কামাল উদ্দীন, জাকিয়া, ফাতিমা ও বৃদ্ধা শাহানারা খাতুনকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। বর্তমানে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তারা শ্যামনগর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

প্রশাসনের নীরবতা ও কসাই আনিছুরের দাপট

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত ডা. আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় একাধিক রোগীর মৃত্যু এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। ইতোপূর্বে তার এই ক্লিনিকটি প্রশাসন সিলগালা করে দিলেও রহস্যজনক কারণে তিনি পুনরায় ব্যবসা শুরু করেন। স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রশাসনের নাগের ডগায় কীভাবে একজন চিহ্নিত ‘কসাই’ ডাক্তার সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের সাথে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে প্রকাশ্যে এই জুলুম চালিয়ে যাচ্ছেন? স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ আয়ের একটা বড় অংশ দিয়ে নির্দিষ্ট মহলে মাসোহারা পৌঁছে দেওয়াই তার এই দাপটের মূল উৎস।

 

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ডা. আনিছুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি ফোন রিসিভ না করে আত্মগোপনে রয়েছেন। অন্যদিকে সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের এই ‘রেফার’ বাণিজ্যের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসছে শ্যামনগরবাসী। তারা অবিলম্বে এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং ডা. আনিছুরের বিতর্কিত ক্লিনিক স্থায়ীভাবে বন্ধসহ তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। এটা আমাদের প্রথম পর্ব

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews