বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
খুলনার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পেলেন সরকার ওমর ফারুক দেবহাটা উপজেলা ছাত্রদলের আয়োজনে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ  কলারোয়ায় ৩৭৬ হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা দূর ও ২৫০০ কৃষক পরিবারের ভাগ্যবদলে খালের কচুরিপানা পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন  শ্যামনগরে নামজারি ও জমি ইজারায় দুর্নীতি নায়েব গগন ও ঝাড়ুদার জিতেনের সিন্ডিকেটে জিম্মি বুড়িগোয়ালিনী বেতাগীর কাজীরহাট বাজার দখল, নোংরা পরিবেশ ও অব্যবস্থাপনায় বদলাচ্ছে না বাজারের চিত্র   সাতক্ষীরায় প্রকাশ্যে ক্ষতিকারক ‘ডেনড্রাইট’ আঠা সেবন ঝুঁকিতে কিশোর ও যুবসমাজ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা তালার উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা, এক বছরের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা চালুর ঘোষণা হাবিবের শ্যামনগরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু পুলিশি শৃঙ্কলা ও নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ বকশী হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি সাতক্ষীরায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় বৃক্ষমেলা ও বৃক্ষরোপণ অভিযানের সমাপ্তি

শ্যামনগরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নদী দখলের অভিযোগ প্রতিবাদ করায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার দাবি।

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬
  • ২৪১ বার পড়া হয়েছে

বাবলুর রহমান বাবু, সাতক্ষীরা জেলা ক্রাইম রিপোর্টার।

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল ফিতরের রাতে আইবুড়ি নদীর জায়গা অবৈধভাবে দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। দখল প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালি বাজার সংলগ্ন এলাকায়। অভিযুক্ত কেএম আশরাফ হোসেন। জেলেখালি ২৫ মথুরাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ঈদুল ফিতরের রাতের নিস্তব্ধতার সুযোগ নিয়ে প্রধান শিক্ষক কেএম আশরাফ হোসেন তার ছেলে সজিব হোসেন ও একদল ভাড়াটে লোকবল নিয়ে জেলেখালি বাজার সংলগ্ন আইবুড়ি নদীর তীরবর্তী সরকারি জায়গা দখলে নিতে শুরু করেন। সেখানে তারা দ্রুতগতিতে দোকানঘর নির্মাণ শুরু করেন।

এ সময় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দিতে এলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বাধা দেওয়ায় প্রধান শিক্ষকের সাথে থাকা লোকজন গ্রামবাসীর ওপর চড়াও হয়।

 

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা চিত্ত বিশ্বাস বলেন- “রাত ১টার পর আশরাফ মাস্টার ও তার ছেলে সজিব ভাড়াটে বাহিনী নিয়ে সরকারি জায়গা দখল করে দোকান তোলা শুরু করেন। আমরা গ্রামের মানুষ যখন বাধা দিতে যাই, তখন তারা আমাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়।”

আরেক ভুক্তভোগী দেবদাস কুমার বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন-“আশরাফ মাস্টারের অবৈধ দখলে বাধা দেওয়ায় তার সাথে থাকা গুন্ডা বাহিনী আমাদের ওপর এবং আমাদের পরিবারের মহিলাদের ওপর হামলা চালায়। একজন শিক্ষক হয়ে তিনি কীভাবে মাঝরাতে সরকারি জমি দখল আর সাধারণ মানুষের ওপর হামলা করেন, আমরা তার বিচার চাই।”

 

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান শিক্ষক কে এম আশরাফ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম পল্টু বলেন সরকারি যায়গা দখল করা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার বিষয়টি আমি জেনেছি। পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

 

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই ভূমিদস্যুতা ও হামলার ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews