সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কাশিমাড়ীকে মাদক ও অনলাইন জুয়ামুক্ত করতে মাঠে কাশিমাড়ী ইয়ুথ সোসাইটি কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পুনরায় যোগদান করলেন কর্মদক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইউনুস আলী রাজশাহী তায়কোয়ানডো দোজাং এর আয়োজনে ২৬তম বেল্ট বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হল ৭৫টি সেলাই নিয়েও মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই, ৩০ দিনেও ধরা পড়েনি  আসামি পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আদমদীঘিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সাকিব গ্রেপ্তার! ট্রাস্কফোর্স অভিযানে একাধিক মামলার আসামি নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার; ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজা উদ্ধার মাদকবিরোধী অভিযানে সোচ্চার হয়ে সরকারের সাথে তাল মিলিয়ে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করতে চাই তালার ৪ নং কুমিরা ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারগন। নবাগত পুলিশ সুপার আশিস বিন হাছান: ঝিনাইদহকে  শান্ত ও মাদকমুক্ত জনপদ গড়ার প্রত্যয়  ফকিরহাটে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় পথচারী নিহত কলারোয়ায় টিআর-কাবিখা প্রকল্পে লাখ লাক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

শ্যামনগরে জনপ্রতিনিধি রবিউল জোয়াদ্দারের বিরুদ্ধে সাজানো মামলার অভিযোগ নেপথ্যে এসআই জহুরুলের ‘তৎপরতা’!

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১০৮ বার পড়া হয়েছে

মোঃ হাফিজুর রহমান হাফিজ, সাতক্ষীরা জেলার ক্রাইম রিপোর্টার ।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পার্শ্বেমারী এলাকায় জমিজমা ও পুরনো বিরোধের জেরে মো: মনিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির দায়ের করা এজাহার নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মামলার ১ নম্বর আসামি স্থানীয় সমাজসেবক ও জনপ্রতিনিধি মো: রবিউল ইসলাম জোয়াদ্দারের পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে তাকে এই মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। বিশেষ করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জহুরুল ইসলামের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গত ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখের কথিত ঘটনার উল্লেখ করে মনিরুল ইসলাম থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। যেখানে রবিউল ইসলাম জোয়াদ্দারসহ ১৩ জন নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারপিট ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা হয়। এজাহারে দাবি করা হয়, রবিউল জোয়াদ্দার মনিরুলের বাড়িতে গিয়ে ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন।

তবে রবিউল জোয়াদ্দারের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় রবিউল জোয়াদ্দার ঘটনাস্থলেই ছিলেন না। তিনি খুলনায় তার নিজ বাসভবনে অবস্থান করছিলেন এবং সেখান থেকে বিশেষ কাজে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, ডিজিটাল প্রযুক্তির (কল লিস্ট ও লোকেশন) সাহায্য নিলেই তার নির্দোষ হওয়ার প্রমাণ মিলবে।

 

অভিযোগ উঠেছে, শ্যামনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহুরুল ইসলাম অনৈতিক সুবিধা বা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বাদী মনিরুল ইসলামকে দিয়ে এই বানোয়াট এজাহারটি লিখিয়েছেন। শুধু তাই নয়, রবিউল জোয়াদ্দারকে ঢাকা যাওয়ার পথে র‍্যাব-৬-এর মাধ্যমে গ্রেফতার করানোর পেছনেও এই কর্মকর্তার বিশেষ যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বর্তমানে আসামিকে শ্যামনগর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

 

বিষয়টি নিয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: খালেদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান

“আমি বর্তমানে একদিনের ছুটিতে আছি এবং শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য খুলনায় এসেছি। এই মামলার বিষয়ে আমি বিস্তারিত কিছু জানি না।”

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, রবিউল ইসলাম জোয়াদ্দার এলাকায় একজন সৎ, নির্ভীক এবং গরিবের বন্ধু হিসেবে পরিচিত। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলেও তার বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করা হয়েছিল। কিছুদিন আগে তাকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর পরিকল্পনা সংক্রান্ত অডিও বা তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল, যা থেকে স্পষ্ট যে একটি মহল তাকে সামাজিকভাবে নিশ্চিহ্ন করতে তৎপর।

স্থানীয়দের মতে, মনিরুল ইসলামের সাথে রবিউলের জমি সংক্রান্ত বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু চাঁদাবাজি বা মারপিটের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। মূলত রবিউলকে রাজনৈতিকভাবে দমন করতেই এই ‘সাজানো’ এজাহার তৈরি করা হয়েছে।

 

মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে রবিউল জোয়াদ্দারের পরিবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

 

 

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews