1. live@dailysatkhirdiganta.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.dailysatkhirdiganta.com : দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত :
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন

শ্যামনগরে খাস জমি দখল করে প্রবাসীর অট্টালিকা নায়েব রেজাউলের ‘ম্যানেজ’ রাজনীতিতে বিপন্ন সরকারি সম্পদ

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক,

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে সরকারি খাস জমি ও পুকুর দখল করে স্থায়ী পাকা স্থাপনা নির্মাণের মহোৎসব চলছে। উপজেলার জয়াখালী গ্রামে আইনের তোয়াক্কা না করে আরসিসি কলাম ও ঢালাইয়ের মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি গ্রাস করছেন এক কুয়েত প্রবাসী। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মোঃ রেজাউল করিমের প্রত্যক্ষ মদদ ও আর্থিক লেনদেনের বিনিময়েই এই অবৈধ নির্মাণ কাজ অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, কৈখালী ইউনিয়নের জয়াখালী মৌজার ৭৫ নং জেএল স্থিত ৭৭২ নং দাগের সরকারি খাস জমি ও পুকুর পাড় দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করছেন কুয়েত প্রবাসী মোঃ মিজানুর রহমান মোল্লা। প্রবাস থেকে পাঠানো অর্থের জোরে তার পিতা নুর ইসলাম মোল্লা বর্তমানে এই নির্মাণ কাজ তদারকি করছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, সরকারি পুকুরের চারপাশ ইটের গাঁথুনি দিয়ে ঘিরে সেখানে আরসিসি পিলার স্থাপনের মাধ্যমে স্থায়ী কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যা ভূমি আইনের চরম লঙ্ঘন।

।এ বিষয়ে কৈখালী ও রমজাননগর ইউনিয়নের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সরকারি ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মোঃ রেজাউল করিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পেশাদারিত্ব এড়িয়ে ‘অজ্ঞতা’র অজুহাত দেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, তিনি এই কর্মস্থলে নতুন (মাত্র দুই মাস) এসেছেন এবং বিষয়টি তার জানা নেই।

তবে স্থানীয় তথ্যানুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন চিত্র। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রেজাউল করিম দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রভাবশালী মহলের সাথে তার সখ্যতা দীর্ঘদিনের। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের মাসোহারা ও এককালীন অর্থের বিনিময়ে তিনি সরকারি জমিতে এই অবৈধ স্থাপনার বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এমনকি সম্প্রতি ভেটখালী বাজারে সরকারি জমি লিজের শর্ত ভঙ্গ করে পাকা দোকান নির্মাণেও তার পরোক্ষ সহায়তার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সাংবাদিকদের ফোন এড়াতে তিনি প্রায়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন অথবা ‘নতুন এসেছেন’ বলে দায় এড়িয়ে যান।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় যেখানে ভূমি কর্মকর্তার অতন্দ্র প্রহরী হওয়ার কথা, সেখানে রেজাউল করিমের মতো অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে সরকারি জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পদে পরিণত হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসী জানান, “নায়েব সাহেব সব দেখেও না দেখার ভান করছেন কারণ তার পকেট ভারী হয়েছে। আমরা চাই দ্রুত এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হোক।”

 

সরকারি খাস জমি উদ্ধারে এবং অসাধু ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত নিশ্চিত করতে শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী। তাদের দাবি, অবিলম্বে এই অবৈধ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

 

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত