1. live@dailysatkhirdiganta.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.dailysatkhirdiganta.com : দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত :
শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন

নেশা মানেই ধ্বংস: দুনিয়া ও আখিরাতে মাদকসেবীর করুণ পরিণতি

প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

মুফতি মাওলানা শামীম আহমেদ,সাংবাদিক, ইসলামিক কলামিস্ট, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।

ইসলাম মানবজাতির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে মানুষের কল্যাণ ও নিরাপত্তা সর্বাগ্রে গুরুত্ব পেয়েছে। মাদক বা নেশাজাতীয় বস্তু—যা মানুষের বিবেক, বুদ্ধি ও চরিত্রকে ধ্বংস করে—তা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। কারণ নেশা শুধু দুনিয়াতেই নয়, আখিরাতেও মানুষের জন্য ভয়াবহ ধ্বংস ডেকে আনে।
মাদক: শয়তানের ফাঁদ
আল্লাহ তাআলা কোরআনে ইরশাদ করেন—
“হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদি ও ভাগ্য নির্ধারণের শরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং এগুলো থেকে বেঁচে থাক, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।”
(সূরা মায়িদা: ৯০)
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, মাদক মানুষের জন্য শুধু ক্ষতিকরই নয়, বরং শয়তানের একটি বড় কৌশল, যা মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
ইবাদত কবুলে বাধা
হাদীসে এসেছে, প্রবীণ নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেন—
“যে ব্যক্তি মদ পান করে, তার ৪০ দিন পর্যন্ত নামাজ কবুল হয় না।”
(তিরমিজি)
এটি প্রমাণ করে, মাদকসেবী ব্যক্তি আল্লাহর নিকট থেকে দূরে সরে যায় এবং তার ইবাদতও গ্রহণযোগ্যতা হারায়।
আখিরাতে ভয়াবহ শাস্তি
হাদীসে বর্ণিত হয়েছে—
“যে ব্যক্তি দুনিয়ায় মদ পান করবে এবং তাওবা না করে মারা যাবে, তাকে আখিরাতে ‘তীনাতুল খাবাল’ পান করানো হবে।”
সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, এটি কী? তিনি বললেন—
“জাহান্নামবাসীদের পুঁজ ও রক্ত।”
(সহিহ মুসলিম)
এ বর্ণনা আখিরাতে মাদকসেবীর জন্য কতটা ভয়ংকর শাস্তি অপেক্ষা করছে, তা স্পষ্ট করে। দুনিয়াতেও করুণ পরিণতি
মাদক মানুষের—
বিবেক ও জ্ঞানশক্তি নষ্ট করে
পরিবার ও সমাজ ধ্বংস করে
অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনে
অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়
অর্থাৎ, মাদক দুনিয়াতেই একজন মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।
তাওবার দরজা খোলা
ইসলাম হতাশার ধর্ম নয়। কেউ যদি মাদকাসক্ত হয়েও আন্তরিকভাবে তাওবা করে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করতে পারেন।
আল্লাহ বলেন—
“নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করেন।”
(সূরা যুমার: ৫৩)
মাদক সাময়িক আনন্দ দিলেও এর পরিণতি ভয়াবহ—দুনিয়ায় লাঞ্ছনা, আখিরাতে কঠিন শাস্তি। তাই একজন মুসলমানের উচিত সব ধরনের নেশা থেকে দূরে থাকা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে চলা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে মাদকমুক্ত জীবন দান করুন এবং সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত