
শামীম আহমেদ পাবনা জেলা প্রতিনিধি
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের মারপিটের শিকার হয়ে ভয়ে বিদ্যালয় বিমুখ কমলমতি শিক্ষার্থীরা
অভিযুক্ত শিক্ষক উপজেলার সাঁথিয়া পৌরসভাধীন ১১৪ নং ফেঁচুয়ান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এস.এম শাহরিয়ার আলম সবুজ।
শিক্ষার্থীর অভিভাবক আলামিন হোসেন জানান, তার ছেলে দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্র রনি, সে অংক করতে গিয়ে ভূল করায় অভিযুক্ত শিক্ষক নাকে ঘুশি মারায় শিক্ষার্থীর নাক ফেটে রক্ত ক্ষরণ হয়।
অভিভাবক লাল চাঁদ জানায়, তার মেয়ে লাবনী খাতুন তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্রী পড়া না হওয়ায় তার চুলের চিপ টেনে উপরে ফেলে ওই শিক্ষক।
আরিফ শেখের অভিযোগ তার ছেলে প্রথম শ্রেনীর ছাত্র সৌরভ, ফারুকের ছেলে দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্র বায়োজিদ কে একই ভাবে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেন। অভিভাবক মনু বলেন আমার মেয়ে মিথিলাকে ৫/৬ মাস আগে ঐ সবুজ মাস্টার বেদম মারপিট করেছিল। এছাড়াও অত্র বিদ্যালয়ের একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন তাদের সন্তানদের মারপিট করেছে ঐ শিক্ষক। অভিভাবকদের দাবি অভিযুক্ত শিক্ষক একজন মাদকাসক্ত তাকে ডোপ টেস্টের আওতায় আনা হোক এবং বরখাস্ত করা হক।
উপজেলার পুন্ডুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার এবং তাদের অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা দেওয়া আছে শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন ও নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করে তাদের শিক্ষা দিতে হবে। কোন শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা যাবে না।
অভিযুক্ত শিক্ষক সবুজ জানান, আমার ভুল হয়েছে হঠাৎ করে এমনটা হয়ে গিয়েছে, আমি এমনটা আর করব না।
অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ আলেদা খাতুন ঘটনার সত্যতা শিকার করে বলেন, তার বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক এস.এম শাহরিয়ার আলম সবুজ শিক্ষার্থীদের মারধর করে। এ ব্যপারে ঐ শিক্ষকে বার-বার সাবধান করা সত্বেও সে শোনে না।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও বিদ্যালয়ের সভাপতিকে অবগত করার পর অভিযুক্ত শিক্ষক ক্ষমা চায় কিন্তু সে এখনো শিক্ষার্থীদের মারধর করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হোসাইন মোহাম্মদ বেলাল জানান, মেধা ভিত্তিক বাচ্চাদের শেখানোর জন্য বিভিন্ন কৌশল রয়েছে তবে মারধর বা শারিরীক শাস্তি দিলে শিশুর মধ্যে নেগেটিভ ইমোশনাল তৈরী হয়। এ কারনে শিশুর মস্তিষ্ক পুরোপুরি কলাপস হয়ে যায় তখন কোন শিখন ধারন বা গ্রহন করা সম্ভাব হয় না। শিশুর ক্ষেত্রে শারীরিক প্রহার সম্পূর্ন নিষেধ করা হয়েছে।