শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সিলেটে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে অন্যত্র নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেফতার সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উদযাপিত জুলাই শহীদ দিবস-২৬” উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত জুলাই শহীদ দিবসে কালিগঞ্জে দোয়া ও আলোচনা, চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তালায় জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত শহীদ আবু সাঈদ স্মরণে আশাশুনিতে ১১দলীয় ঐক্য জোটের র‍্যালি ও আলোচনা সভা।।শহীদদের আদর্শ বাস্তবায়নের আহ্বান ঠাকুরগাঁওয়ে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব অনুষ্ঠিত শ্রীপুরে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন বিজয়নগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি। আবু সাঈদের স্মরণে সাতক্ষীরায় ১১ দলীয় জোটের র‍্যালি ও সমাবেশ

ঠাকুগাঁওয়ে স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা তদন্ত প্রতিবেদন বিষয়ে জানতে চাইলেন আদালত

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

বেলাল হোসেন ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি,

 

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক শহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুদক। আর সেই মামলার কার্যক্রম আটকে থাকায় দুদকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন বিষয়ে জানতে চেয়েছেন আদালত। এমন নির্দেশনার প্রেক্ষিতে আদালতে লিখিতভাবে ব্যাখা দিয়েছেন মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা।

 

দূর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঠাকুরগাঁওয়ের উপ সহকারি পরিচালক ও মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের জমা দেয়া কপি থেকে জানা গেছে, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক শহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক । তবে মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসামিদের করা পৃথক দুটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগ সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর সব কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। সে কারনে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে এবং আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা সম্ভব হয়নি।

 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩০ মার্চ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত শহিদুল ও তার স্ত্রী বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায়, তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কারণ ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দেন। যার মামলা নম্বর-০৩/২০২৩ ও মামলা নম্বর-০৬/২০২৪। আদালতের ওই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জুন বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করা হয়।

 

লিখিত ব্যাখ্যায় আরো বলা হয়, প্রথম মামলাটি ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঠাকুরগাঁও থেকে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় দায়ের করা হয়। মামলায় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারি এবং বর্তমানে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে একই পদে কর্মরত রয়েছেন।

 

মামলার দায়িত্ব পাওয়ার পর তদন্তকারি কর্মকর্তা বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ, নথি যাচাই এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছিলেন। তবে তদন্ত চলাকালে শহীদুল ইসলাম মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নম্বর-৩১০/২০২৪ দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি শেষে একই বছরের ১৬ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি করেন এবং দুদকের নোটিশসহ স্পেশাল মামলা নম্বর-০৩/২০২৩-এর সব কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। পরে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং ৩১ জুলাই ২০২৪ তারিখে পৃথক নির্দেশনায় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে হাইকোর্টের আদেশ অনুসরণ করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

 

অপরদিকে দ্বিতীয় মামলাটি ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর একই আইনে দায়ের করা হয়। যার মামলা নম্বর-০৬/২০২৪ হিসেবে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। দ্বিতীয় মামলার তদন্তও স্বাভাবিক নিয়মে চলছিল। পরে কামরুন নাহারও মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নম্বর-১৫০৫৮/২০২৪ দায়ের করেন। এরপর থেকে দ্বিতীয় মামলার তদন্ত কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে।

 

ব্যাখ্যায় আরও উল্লেখ করেন, দুটি মামলার বর্তমান অবস্থা নিয়মিতভাবে মাসিক অগ্রগতি প্রতিবেদনের মাধ্যমে দুদকের প্রধান কার্যালয়কে জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি চলতি বছরের ৩১ মার্চ মহাপরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড প্রসিকিউশন), দুদক প্রধান কার্যালয় বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে হাইকোর্টে বিচার কার্যক্রম স্থগিত থাকা মামলাগুলোর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় আইনগত উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

 

হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিটগুলোর নিষ্পত্তি এবং কমিশনের অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

 

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ডিসি অফিসের শহিদুল সহজ সরল মানুষকে ভুল বুঝিয়ে সরকারি কাজের জমি অধিগ্রহনে কমদামে জমি ক্রয় করেন। আর সেই জমি সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে উচ্চমূল্যে বিক্রি করেন। এছাড়াও টিসিবির পণ্যের টাকা লুটপাট ও অনিয়ম দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।

এভাবেই মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে যান কর্মচারি শহিদুল। শহরে গড়ে তোলেন আলিসান বাড়ি। হঠাৎ করেই এত সম্পদের মালিক হওয়ায় শহরজুড়ে চলছে আলোচনা ও সমালোচনা। তারপরেও শাস্তি না হওয়ায় এখনো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

 

এই দুই মামলার আসামি শহীদুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী কামরুন নাহারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

আর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আসামিপক্ষের করা রিটের কারণে তদন্ত কার্যক্রমও স্থগিত আছে। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

 

দুদকের আইনজীবী এমএম অ্যাডভোকেট সফিউজ্জামান সুমন বলেন, মামলা দুটির ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে জমা হলেই কার্যক্রম চালানো যাবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews