
গাবুরা ইউনিয়ন প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ১২ নম্বর গাবুরা ইউনিয়নের বিবাহ নিবন্ধক (কাজী) মো. বাকী বিল্লাহর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জাল দিন দিন আরও দীর্ঘ হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের একটি বিতর্কিত বিয়ের নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে বাকী বিল্লাহ আলোচনায় আসার পর এবার তাঁর অন্যতম প্রধান সহযোগী ও একাধিক মামলার আসামি এমদাদুল খাঁর চাঞ্চল্যকর সব অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। কাজী বাকী বিল্লাহর সাথে যোগসাজেশ করে দীর্ঘদিন ধরে উপকূলীয় এলাকায় ভুয়া বিয়ে পড়ানো, অপ্রাপ্তবয়স্কদের গোপনে কাবিন করা এবং মানব পাচারসহ নানা অপরাধ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল গনি খাঁর বড় ছেলে এমদাদুল খাঁ দীর্ঘদিন ধরে কাজী বাকী বিল্লাহর প্রধান সিন্ডিকেট সদস্য বা সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে। এই চক্রটি এলাকার সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে নামমাত্র অর্থের লোভে বা অবৈধ বাণিজ্যের মাধ্যমে একের পর এক অনিবন্ধিত ও ভুয়া বিয়ে সম্পন্ন করে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, এমদাদুল খাঁ শুধু অন্যের বিয়ে পড়ানো বা ভুয়া কাবিন তৈরিতে সহযোগিতাই নয়, নিজ জীবনেও গুরুতর অপরাধের জন্ম দিয়েছে। তিনি নিজের আপন চাচাতো বোনকে গোপনে বিয়ে করেন এবং কাজী বাকী বিল্লাহর মাধ্যমে সেই বিয়ের ভুয়া কাবিননামা ও গোপন নিবন্ধন সম্পন্ন করে বিষয়টি সম্পূর্ণ ধামাচাপা দিয়ে এলাকায় দর্পভরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেবল বিবাহ জালিয়াতিই নয়, এমদাদুল খাঁ একজন চিহ্নিত অপরাধী। তাঁর বিরুদ্ধে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থায় একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মানব পাচার, অস্ত্র মামলা এবং সুন্দরবন কেন্দ্রিক বিশেষ ক্ষমতা আইনের বেশ কয়েকটি মামলা ঝুলছে। এতগুলো গুরুতর ফৌজদারি মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে তিনি নিজের অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এমদাদুল খাঁ ও কাজী বাকী বিল্লাহর এই চক্রটি শ্যামনগর ও উপকূলীয় অঞ্চলের সহজ-সরল মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছে। এলাকার অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের প্রলোভন দেখিয়ে বা নানা কৌশলে কাজী বাকী বিল্লাহর আস্তানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর নিয়মবহির্ভূত ও নামমাত্র বয়সে সরকারি নিবন্ধন ছাড়া বা ভুয়া কাবিনে বিয়ে পড়ানো হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা কাবিননামা বা আইনি কাগজপত্র চাইতে গেলে তাদের কাছে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়। সামান্য কিছু টাকার লোভে উপকূলের উঠতি বয়স ও তরুণ সমাজের জীবন ধ্বংস করে দিচ্ছে এই চক্র।
এলাকাবাসীর দাবি, মানব পাচার ও অস্ত্র মামলার মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত এমদাদুল খাঁ এবং ভুয়া কাবিন জালিয়াতির হোতা কাজী বাকী বিল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে শ্যামনগরের মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। অতীতে বিভিন্ন সময় তাদের অপরাধ স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তারা থামেনি।
বর্তমানে এই চক্রের অপকর্ম সীমা ছাড়িয়ে গেছে। অবিলম্বে ভুয়া কাজী বাকী বিল্লাহ এবং তাঁর প্রধান সহযোগী অস্ত্র ও মানব পাচার মামলার আসামি এমদাদুল খাঁকে শ্যামনগর থেকে বিতাড়িত করে আইনের কঠোর আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল ও স্থানীয় জনগণ। উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষ অবিলম্বে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে এই অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।