রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
৭০০ মিটার সড়কেই ৫০টির বেশি গর্ত, মণিরামপুরে জনদুর্ভোগের শেষ কোথায়? কালিয়াকৈরে অতি ভারী টানা বৃষ্টি বর্ষণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি,বসতবাড়ি দোকান রাস্তায় পানি বন্ধী মাদারীপুরে ৩০ মামলার পলাতক আসামি ৪০০ পিস ইয়াবা ও চাপাতীসহ সহ গ্রেফতার বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের নির্বাচন ২৭ সেপ্টেম্বর। পাহাড় কাটার চরম খেসারত: বায়েজিদে ধসে পড়লো পাহাড়, ৩৬ পরিবার আটকা তালায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বীরগঞ্জে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা নিবন্ধনকৃত যুব ক্লাবের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে কোস্ট ফাউন্ডেশন: ১০০০ পরিবারের মাঝে জরুরি ত্রাণ বিতরণ। আশাশুনির গর্ব মোঃ জারিফ মাহমুদ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫- ট‌্যা‌লেন্টপু‌লে বৃ‌ত্তি পে‌য়ে‌ছে”

কালিয়াকৈরে অতি ভারী টানা বৃষ্টি বর্ষণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি,বসতবাড়ি দোকান রাস্তায় পানি বন্ধী

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ

 

বৈরী আবহাওয়ায় অতি ভারী বৃষ্টি বর্ষণে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।বিশেষ করে পোষাক কর্মীরা অনেক কষ্ট করে যাতায়াত করতে অসুবিধা হয় এতে আবার ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও সড়কে পানি উঠে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

 

রোববার (১২ জুলাই) দুপুর থেকে পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড হরতকিতলা, আমতলা,ফজর আলী স্কুলের রুটে,মাইওয়ান মোড়, হরিণহাটি, জোড়াপাম্প, বিশ্বাসপাড়া, ভাঙা মসজিদ, আনসার একাডেমি এলাকা, পল্লীবিদ্যুৎ, নিশ্চিতপুর, হাবিবপুর, রূপনগর, শিয়ালপাড়া, ডাইনকিনী, হরতকীতলা, দিঘীরপাড় বটতলা ও পূর্ব চান্দরাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জলাবদ্ধতার চিত্র দেখা গেছে। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানিতে সড়ক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি তলিয়ে রয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল ও জলাশয় ভরাট, পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হওয়া এবং অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বাসপাড়া, হরিণহাটি ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশন খালের মুখ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না।

 

হরতকীতলা এলাকার বাসিন্দা সিয়াম বলেন, “বাড়িতে কোমরসমান পানি উঠেছে। ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয়েছে।”

 

বিশ্বাসপাড়া এলাকার বাসিন্দা আফাজ উদ্দিন বলেন, “পাঁচ দিন হয়ে গেলেও এখনো বাড়ির পানি নামেনি। প্রতি বছর বর্ষা এলেই একই দুর্ভোগে পড়তে হয়। স্থায়ী সমাধান না হলে এই কষ্ট থেকে মুক্তি নেই।”

 

হাবিবপুর এলাকার বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, “পাঁচটির বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে আছে। অনেক শ্রমিককে হাঁটুপানি মাড়িয়ে কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন।”

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার কয়েকটি শিল্পকারখানার ভেতরেও পানি প্রবেশ করেছে। এতে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের মধ্যেও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

জেলা মোটর মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক এবং কালিয়াকৈর পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী দেওয়ান জসিম উদ্দিন বলেন, “জলাবদ্ধতা নিরসনে সকাল থেকেই স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও এতে অংশ নিয়েছেন।”

 

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, “অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে খালগুলোর পানি ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে। ফলে পানি দ্রুত নামছে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ড্রেন পরিষ্কার, খাল থেকে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে খাল পুনঃখনন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

 

এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী খাল পুনরুদ্ধার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পানি চলাচলের প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অপসারণের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

 

তাদের ভাষ্য, কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে প্রতি বর্ষাতেই কালিয়াকৈরের মানুষকে একই ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews