
মোঃ কামাল উদ্দিন স্টাফ রিপোর্টার:
চট্টগ্রাম:চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদস্থ বাংলাদেশ চা বোর্ড সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী মাস্টার বাবার মাজার এলাকায় অবৈধ পাহাড় কাটার চরম খেসারত দিতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের,গত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও ঝড়ের কবলে পড়ে গত ৭ জুলাই পাহাড়টির বিশাল একটি অংশ ধসে পড়েছে, এতে পাহাড়ের পাদদেশে থাকা প্রায় ৫ থেকে ৬টি বসতঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে অলৌকিকভাবে কোনো প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও বর্তমানে ওই এলাকায় প্রায় ৩৬ জন চরম ঝুঁকিতে আটকে পড়েছেন,
ক্ষোভ ও প্রশাসনের পূর্ববর্তী উদাসীনতাস্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ থেকে ঠিক চার মাস আগে গত ২৮ মার্চ, ২০২৬ তারিখে মোঃ সৌরভ নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দিন-রাত অবৈধভাবে পাহাড় কাটার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পরিবেশ অধিদপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছিল। সে সময় পরিবেশ অধিদপ্তর নামমাত্র জরিমানা এবং কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করে। কিন্তু পাহাড়টির যে অংশটি ইতোমধ্যে কেটে ঝুঁকিপূর্ণ করে রাখা হয়েছিল, তা রক্ষায় কোনো স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলশ্রুতিতে, চলতি মৌসুমের অতিবৃষ্টিতে পাহাড়টির প্রায় অর্ধেক অংশ ধসে পড়ে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।মাস্টার বাবার মাজারের খাদেম ও প্রত্যক্ষদর্শীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পাহাড় ধসের এই ঘটনাটি যদি গভীর রাতে ঘটতো, তবে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটতো। ঘুমন্ত অবস্থায় বহু মানুষ মাটির নিচে চাপা পড়ে মারা যেতো। দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক অবস্থায় জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) কিংবা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-এর কোনো কর্মকর্তাকে দুর্ঘটনাস্থলে না দেখায় তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছিল এলাকায়।
ঘটনাস্থলে ভূমি কর্মকর্তাপরবর্তীতে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি ও অবৈধ পাহাড় কাটার বিষয় নিয়ে এলাকাবাসী সরাসরি জেলা প্রশাসক (ডিসি)-এর কাছে মৌখিকভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে জেলা প্রশাসক দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য হাটহাজারী এসিল্যান্ডকে (সহকারী কমিশনার-ভূমি) নির্দেশ দেন।ডিসি মহোদয়ের কড়া নির্দেশনার পর হাটহাজারী এসিল্যান্ড দ্রুত দায়িত্ব দেন স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তা ওবায়দুল্লাহকে। নির্দেশ পেয়ে পরের দিনই ভূমি কর্মকর্তা ওবায়দুল্লাহ, স্থানীয় বাসিন্দা কবীরসহ একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে সরাসরি দুর্ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান।ঘটনাস্থল থেকে ভূমি কর্মকর্তা ওবায়দুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান:”আমরা এসে দেখেছি এখানে প্রায় ৩৬ জন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আটকে আছেন। তাদের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। আটকে পড়া পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং তাদের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তার প্রস্তুতি চলছে। পুরো বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন মহোদয়) সার্বক্ষণিকভাবে অবগত আছেন।
পরিবেশ রক্ষা ও স্থায়ী গাইড ওয়ালের দাবিপাহাড় কাটার হোতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে কথা বলে দ্রুত এই অবৈধ পাহাড় কাটার বিষয়টি খতিয়ে দেখে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।এদিকে পরিবেশবাদী ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধুমাত্র মাইকিং বা সাময়িক সচেতনতার অজুহাত দেখিয়ে প্রশাসন নিজেদের দায় এড়াতে পারে না। পাহাড় কাটার সাথে জড়িত মূল অপরাধী মোঃ সৌরভের বিরুদ্ধে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং অবিলম্বে পাহাড় ধস ঠেকাতে স্থায়ী গাইড ওয়াল নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।