
বিশেষ প্রতিনিধি
সরকারের ঘোষিত ‘মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্বয়ং শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন সদস্যেরই লাগাতার মাদক সেবনের তীব্র ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানায় কর্মরত কনস্টেবল মেহেদীর বিরুদ্ধে মাদকসংশ্লিষ্টতা, নিয়মিত মাদক সেবন এবং এলাকার চিহ্নিত মাদক চোরাকারবারিদের সাথে গভীর সখ্যতার এই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একজন দায়িত্বশীল police সদস্যের এমন বেপরোয়া মাদকাসক্তিতে ক্ষুব্ধ ও স্তম্ভিত বাদঘাটা এবং গোপালপুর এলাকার সচেতন মহল। বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে উক্ত পুলিশ সদস্যকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অবিলম্ব আইনের আওতায় আনার জোর দাবি উঠেছে। একই সাথে তার ‘ডোপ টেস্ট’ সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী জনগণ।
বাদঘাটা ও গোপালপুর এলাকার একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র এবং ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগে জানা যায়, কনস্টেবল মেহেদী দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ও আশঙ্কাজনক মাত্রায় মাদক সেবনের সাথে জড়িত। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এলাকার শীর্ষ ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী কিসলু এবং সাইলোর বসতবাড়িতে কনস্টেবল মেহেদীর কন্টিনিউ যাতায়াত রয়েছে। তিনি প্রায় প্রতিদিন কর্তব্য ও পোশাকের মর্যাদাকে জলাঞ্জলি দিয়ে ওই সমস্ত মাদক কারবারিদের আস্তানায় অবস্থান করেন। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে মাদক সেবনের পাশাপাশি সেখান থেকে মাদক বহন করে নিয়ে আসেন বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মাঠপর্যায়ের একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর এমন প্রকাশ্য আইনলঙ্ঘন ও অপরাধমূলক আচরণে স্থানীয় জনমনে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কনস্টেবল মেহেদী বর্তমানে শ্যামনগর থানায় নিযুক্ত থাকলেও এর পূর্বে তিনি তালা থানায় কর্মরত ছিলেন। তালা থানার আশেপাশের বাসিন্দাদের নিকট থেকে প্রাপ্ত গোপন তথ্যানুযায়ী, সেখানে দায়িত্ব পালনকালেও তিনি চরমভাবে মাদকের অন্ধকার জগতের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। সে সময় তার এই প্রকাশ্য মাদকাসক্তি ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার গোপন ও দাপ্তরিক অভিযোগ বা রিপোর্ট উত্থাপিত হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সময়ে কোনো দৃশ্যমান বা কঠোর বিভাগীয় শাস্তির মুখোমুখি না হওয়ায় তার এই অপরাধপ্রবণতা দিন দিন আরও বল্গাহীন ও বেপরোয়া রূপ ধারণ করে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে বর্তমান কর্মস্থলের সাধারণ মানুষকে।
তথ্যানুসন্ধানে আরও জানা যায়, শ্যামনগর থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খালেদুর রহমানের কার্যকালেও কনস্টেবল মেহেদীর বিরুদ্ধে মাদক সেবনের সুনির্দিষ্ট ও তথ্যবহুল অভিযোগ জমা পড়েছিল। তৎকালীন ওসি বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব না করে স্বয়ং সরজমিনে একটি গোপন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করেন। সেই সরজমিন তদন্তে তৎকালীন ওসি মো. খালেদুর রহমান নিজে কনস্টেবল মেহেদীর মাদকাসক্তি ও মাদক কারবারিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অকাট্য সত্যতা ও প্রমাণ পান। ওই সময় তাকে চূড়ান্তভাবে সতর্ক করে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হলেও, উক্ত সৎ কর্মকর্তা থানা থেকে বদলি হওয়া মাত্রই মেহেদী পুনরায় দ্বিগুণ মাত্রায় মাদক সেবন এবং অপরাধচক্রের সাথে লিয়াজোঁ শুরু করেন।
চাকরিগত বাধ্যবাধকতা ও আইনি জটিলতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে শ্যামনগর থানায় কর্মরত তার একাধিক সহকর্মী পুলিশ সদস্য অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তারা জানান, কনস্টেবল মেহেদী নিয়মিত ও লাগাতার মাদক সেবন করে আসছেন। একজন মাদকাসক্ত সদস্যের এমন অনৈতিক ও আপত্তিকর আচরণের কারণে পুরো পুলিশ বাহিনীর গৌরবময় সুনাম ও ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। বাহিনীর অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে তারাও এই কুলাঙ্গার সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের সপক্ষে মত প্রকাশ করেছেন।
“আমরা সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারের নিকট জোরালো দাবি জানাচ্ছি—পুলিশের পোশাকের আড়ালে থাকা এই মাদকসেবীকে অবিলম্বে ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হোক। তাকে একটি বিশেষায়িত মেডিকেল বোর্ডের অধীনে ‘ডোপ টেস্ট’ করানো হলে তার মাদক সেবনের সম্পূর্ণ ও বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ উন্মোচিত হবে। যদি এই অপরাধীর বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর সাধারণ মানুষের যে নূন্যতম আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে, তা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।”
অপরাধী যেই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়—এই নীতিকে সমুন্নত রেখে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ প্রশাসন দ্রুত এই কনস্টেবল মেহেদীকে গ্রেফতার বা সাময়িক বরখাস্ত করে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করবে এবং সাতক্ষীরা পুলিশকে এই গ্লানি থেকে মুক্ত করবে—এমনটাই এখন গোটা জেলার সচেতন নাগরিক সমাজের মূল দাবি।