
নিজস্ব প্রতিবেদক
সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলার ১০নং আটুলিয়া ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবুকে বর্তমান সরকারের মেয়াদেও পুলিশিং কমিটির সভাপতি করায় এবং বিতর্কিত বিএনপি নেতা মিঠুকে সাধারণ সম্পাদক পদে আনার প্রস্তুতি চলায় স্থানীয় জনগণের একটি বড় অংশের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় ইউনিয়ন নির্বাচনী কমিটির অন্যতম শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবু। বাবুর বাবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায়, বিগত সরকারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে পুনরায় পুলিশিং কমিটির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও আইনি সমন্বয়কারী কমিটির সভাপতি করায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
একই সাথে, এলাকায় বিভিন্ন কারণে বিতর্কিত হিসেবে পরিচিত বিএনপি নেতা মিঠুকে এই কমিটির সাধারণ সম্পাদক বা সেক্রেটারি করার প্রস্তুতি চলছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বিতর্কিত ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের দিয়ে পুলিশিং কমিটি গঠন করা হলে কমিটির মূল উদ্দেশ্য—অর্থাৎ এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ব্যাহত হতে পারে।
সূত্রে জানা গেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের ব্যক্তি স্বার্থে এমন বিতর্কিত নেতাকে এই গুরুত্বপূর্ণ আইন-শৃঙ্খলা কমিটিতে রাখার গোপন চেষ্টা চলমান রয়েছে, এই কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই আটুলিয়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, পুলিশিং কমিটিতে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় বা বিতর্কিত অতীত থাকা ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে সৎ, নিরপেক্ষ এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া উচিত।
এই বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি মূলত পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে অপরাধ দমনে কাজ করে। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কোনো বিতর্কিত বা আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে জড়িত ব্যক্তির স্থান পাওয়ার সুযোগ নেই। যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা ক্ষোভ থাকে, তবে তা খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কমিটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়ার আগে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসন সব পক্ষের মতামত ও এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার দাবি স্থানীয়দের।