বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
খুলনার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পেলেন সরকার ওমর ফারুক দেবহাটা উপজেলা ছাত্রদলের আয়োজনে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ  কলারোয়ায় ৩৭৬ হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা দূর ও ২৫০০ কৃষক পরিবারের ভাগ্যবদলে খালের কচুরিপানা পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধন  শ্যামনগরে নামজারি ও জমি ইজারায় দুর্নীতি নায়েব গগন ও ঝাড়ুদার জিতেনের সিন্ডিকেটে জিম্মি বুড়িগোয়ালিনী বেতাগীর কাজীরহাট বাজার দখল, নোংরা পরিবেশ ও অব্যবস্থাপনায় বদলাচ্ছে না বাজারের চিত্র   সাতক্ষীরায় প্রকাশ্যে ক্ষতিকারক ‘ডেনড্রাইট’ আঠা সেবন ঝুঁকিতে কিশোর ও যুবসমাজ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা তালার উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা, এক বছরের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা চালুর ঘোষণা হাবিবের শ্যামনগরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু পুলিশি শৃঙ্কলা ও নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ বকশী হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি সাতক্ষীরায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় বৃক্ষমেলা ও বৃক্ষরোপণ অভিযানের সমাপ্তি

লামায় বিলুপ্তির পথে প্রাকৃতিক সম্পদ বাঁশ, ছন ও পাথর; শঙ্কায় পরিবেশ ও জীবিকা

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
  • ১১৯ বার পড়া হয়েছে

মুহাম্মদ এমরান,লামা(বান্দরবান) প্রতিনিধি

 

প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ বান্দরবানের লামা উপজেলা। পাহাড়, বনভূমি, ঝিরি ও নদীনালার পাশাপাশি বাঁশ, ছন ও পাথর দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা এবং স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন, অপরিকল্পিত ব্যবহার এবং পরিবেশগত নানা কারণে এসব প্রাকৃতিক সম্পদ এখন বিলুপ্তির পথে। ফলে উদ্বেগ বাড়ছে পরিবেশবিদ, স্থানীয় জনগণ এবং সচেতন মহলের মধ্যে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক সময় লামার পাহাড়ি অঞ্চলজুড়ে প্রচুর পরিমাণে বাঁশ ও ছনের দেখা মিলত। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা ঘর নির্মাণ, আসবাবপত্র তৈরি, কৃষিকাজ এবং দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনে এসব সম্পদ ব্যবহার করতেন। একই সঙ্গে নদী ও পাহাড়ি ছড়াগুলোতে প্রচুর পাথর পাওয়া যেত, যা স্থানীয় নির্মাণকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত।

কিন্তু গত এক দশকে ব্যাপক হারে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, অপরিকল্পিত বসতি স্থাপন এবং কৃষিজমি সম্প্রসারণের ফলে বাঁশ ও ছনের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। যে পাহাড়গুলো একসময় সবুজ বাঁশঝাড়ে আচ্ছাদিত ছিল, সেগুলোর অনেক জায়গা এখন ফাঁকা হয়ে গেছে। ফলে বাঁশের উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি এর দামও বেড়ে গেছে।

স্থানীয় প্রবীণদের মতে, কয়েক বছর আগেও লামার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় সহজেই ছন সংগ্রহ করা যেত। গ্রামের অধিকাংশ ঘরের ছাউনি তৈরি হতো ছন দিয়ে। বর্তমানে সেই দৃশ্য প্রায় হারিয়ে গেছে। ছনের প্রাকৃতিক বিস্তার কমে যাওয়ায় এটি এখন অনেকটাই দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, পাহাড়ি ঝিরি ও নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে পাথর উত্তোলনের ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলনের কারণে অনেক ছড়া ও ঝিরির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও দেখা দিচ্ছে ভাঙন, আবার বর্ষাকালে বাড়ছে ভূমিক্ষয়।

পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, বাঁশ, ছন ও পাথর শুধু অর্থনৈতিক সম্পদ নয়, এগুলো পাহাড়ি পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাঁশ মাটির ক্ষয় রোধ করে, ছন পাহাড়ি জীববৈচিত্র্যের অংশ হিসেবে কাজ করে এবং প্রাকৃতিকভাবে থাকা পাথর পাহাড়ি জলধারার ভারসাম্য রক্ষা করে। এসব সম্পদের সংকট ভবিষ্যতে পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে ঘর নির্মাণ কিংবা কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় বাঁশ সহজেই পাওয়া যেত। এখন বাইরে থেকে বেশি দামে বাঁশ কিনতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ব্যয়ও বেড়ে গেছে। একইভাবে ছনের সংকটের কারণে ঐতিহ্যবাহী ছনের ঘর নির্মাণ প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, বিলুপ্তপ্রায় এসব প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। বাঁশ ও ছনের নতুন চারা রোপণ, বনভূমি সংরক্ষণ, অবৈধভাবে সম্পদ আহরণ বন্ধ এবং পাথর উত্তোলনে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পদ সংরক্ষণে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আজ যদি বাঁশ, ছন ও পাথরের মতো প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো লামার ঐতিহ্যবাহী এসব সম্পদের নামই শুধু শুনবে, বাস্তবে দেখতে পাবে না। তাই পরিবেশ রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে এখনই প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য একসময় খ্যাত লামা উপজেলা আজ নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বাঁশ, ছন ও পাথরের অস্তিত্ব রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণই পারে এই সম্পদগুলোকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews